অস্তিত্বহীন ১৮৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়

এস এম আববাস
২৯ মে ২০১৮, ১৯:৫৬আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ০৯:৩৩

শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৮৯টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে নামেই। বাস্তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনও অস্তিত্ব নেই। এগুলোর বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ২৮ নভেম্বর স্বীকৃতি পাওয়া কিন্তু অস্তিত্বহীন স্কুল ও কলেজের তথ্যসহ তালিকা চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও স্বীকৃতিহীন চালু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাও চাওয়া হয় ওই সময়। দেশের ৯টি অঞ্চল–ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক এবং ৬৪ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা সে অনুযায়ী অস্তিত্ব নেই এমন ১৮৯টি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার তালিকা পাঠান।

তালিকা পাওয়ার পর গত ৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দেন। ওই চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অস্তিত্ব নেই এমন প্রতিষ্ঠান ছেঁটে ফেলা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়া গেলে এসব প্রতিষ্ঠান ছেঁটে ফেলা হবে।’

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই নির্দেশ দেওয়া হবে।’ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে, ‘অস্তিত্বহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাদের একাডেমিক স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমতি রয়েছে, তা বাতিল করা হবে।’

গত বছরের ২৮ নভেম্বর মাউশির পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামছুল হুদা স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের ৯টি অঞ্চল ও ৬৪ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে দেশের অস্তিত্বহীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ঝরেপড়া রোধ ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে এই তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

ওই সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ শামছুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নামের স্বীকৃতি থাকলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনও অস্তিত্ব নেই। আবার স্বীকৃতি বা পাঠদানের অনুমোদন না থাকলেও নিয়মিতই চলছে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই মনিটরিংয়ের জন্যই জরুরিভাবে তথ্যসহ তালিকা চাওয়া হয় মাঠপর্যায় থেকে। এছাড়া অনুমোদন নিয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছে না। অস্তিত্বহীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কিছু করা হচ্ছে কিনা তা জানা দরকার। সরকারের নিয়ম-নীতির বাইরে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কিনা, এর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার মতো কোনও কিছু পরিচালিত হচ্ছে কিনা এবং বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে কিনা তা মনিটরিং করা হবে। এছাড়া ঝরে পড়া রোধসহ বিভিন্ন কারণে তথ্যসহ তালিকা চাওয়া হয়।’

/এএম/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম