মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র একটি অংশ আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও আরেক অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহবাগে উপস্থিত হয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এদিকে এই মঞ্চের আরেক অংশ শাজাহান খানের নির্দেশনা না মেনে বিভক্ত হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিভক্ত হওয়া ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় মেহেদী হাসানকে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ডের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি এখন নিজেকে সভাপতি দাবি করছেন। মেহেদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং সবাইকে মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় শাহবাগে আসার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আরেক অংশের মুখপাত্র আকম জামাল উদ্দীন সোমবার এই মঞ্চের দায়িত্ব নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের হাতে তুলে দেন। এরপর মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে বিলুপ্তি করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খানকে আহ্বায়ক ও ওসমান আলীকে সদস্য সচিব করে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চে'র নাম ঘোষণা করেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় শাহবাগে এসে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ১৪ তারিখ থেকে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেবো। শাহবাগে কয়েক দিন ধরে আমাদের সন্তানেরা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের দাবি কীভাবে ধীরে ধীরে সফল করা যায়, তা নিয়ে আমরা বসেছি। বাংলার মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ঠাঁই হবে। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ভালোবাসেন।’
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি শেখ আতিকুর বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের কোনও অভিভাবক ছিল না। কিন্তু গতকাল শাজাহান খান অভিভাবক হিসেবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন। আমরা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
এই প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে ফেসবুকে মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশনা, আগামীকালের কর্মসূচি পালন পরবর্তী প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। শাহবাগে আজ আন্দোলন স্থগিত বিষয়ে মিডিয়ায় যে খবর প্রচারিত হয়েছে তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। সকলকে আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার বিকাল ৩টার চলমান কর্মসূচি সফল করতে শাহবাগ আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে শেখ আতিকুর বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিভাবকরা যেহেতু একটা কথা বলেছেন, তাই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। তা না করে বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।’
মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। গতকাল রাত ৮টার দিকে শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি পদে আছেন কিনা জানতে চাইলে নিজেকে সভাপতি দাবি করে বলেন, ‘আমি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এখনও আছি। আমাদের এই পদ নিয়ে একটু আইনিভাবে ঝামেলা চলছে।’








