নাইজেরিয়ান জামাইয়ের শেখানো প্রতারণা করে বউ ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ ঢাকার এক পরিবারের আট সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।সোমবার (৫ নভেম্বর) দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলো নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েল ইকেনেদিলিচুকও আসুজু (২৭), তার স্ত্রী লতা বেগম (২৩), লতার বোন পাপিয়া বেগম (২২), লতার বোনের স্বামী মো. হাবিব (২৫), হাবিবের বাবা মো. জয়নাল আবেদীন (৪৫), হাবিবের মা মোছা. হামিদা আক্তার (৪০), লতার আত্মীয় মোছা. রুমা আক্তার (১৯) এবং রুমার স্বামী মো. শুক্কুর আলী (২৫)। গত ৩ নভেম্বর বনানী থানায় করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলা এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ফ্রাংক উইলিয়াম নামে স্কটিশ নাগরিক পরিচয়ে এক ব্যক্তি ঢাকার এক নারীকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তিনি তা একসেপ্ট করেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গত ২৩ মার্চ ফ্রাংক উইলিয়াম ওই নারীকে ইস্টার সানডে উপলক্ষে একটি উপহার পাঠানোর কথা বলেন। এ সম্পর্কিত একটি মেইলও পান ওই নারী। পরে বাংলাদেশি তরুণী রোজিনা, ফাতেমা, লতা ওই নারীকে মোবাইল ফোনে জানায় তার উপহার এসেছে। উপহার ছাড়াতে ট্যাক্স বাবদ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। এরপর ওই নারী গত ২৭ মার্চ ডাচবাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে (মহাখালী শাখা) ওই টাকা জমা দেন। একইভাবে ২৮ মার্চ ওই তরুণীদের চাওয়া অনুযায়ী ওয়ান ব্যাংকের আরেকটি অ্যাকাউন্টে (গুলশান শাখা) দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা দেন। পুনরায় ওই তরুণীরা সাউথ ইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে। তখন ওই নারী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর ৩ নভেম্বর তিনি বনানী থানায় মামলা করেন।
ডিবির সহকারী কমিশনার মহরম আলী জানান, পরে মামলাটি থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর হয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। সোমবার আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে খিলক্ষেত থানার নামাপাড়ার কামাল দর্জির বাড়ি থেকে আসামি রুমা আক্তার ও তার স্বামী মো. শুক্কুর আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলার বাকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশকে তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের খিলক্ষেত থানার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, লতার স্বামী নাইজেরিয়ান নাগরিক ইমানুয়েল মোবাইলে ফেসবুক, ম্যাচেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন নারীর কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। একপর্যায়ে তাদের সরলতার সুযোগে উপহার পাঠানোর কথা বলে হাবিবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা নেয়। তাদের বলা হয়, উপহার কাস্টমস থেকে ছাড়াতে টাকা লাগবে। ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েলকে দিলে সে প্রতারক পরিবারের প্রত্যেককে প্রতি লেনদেনে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতো।








