‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি বিচার করে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের ভাবতে হবে, উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয়। এটি গুটিকয়েক মেধাবীদের জন্য। বাকিদেরকে দেশ পরিচালনার শিক্ষা দিতে হবে।’ বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান।
দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘উচ্চশিক্ষায় চ্যালেঞ্জসমূহ: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এ আয়োজন।
এ সময় ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা কোনও ভিশন বা লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারিনি। ভিশন যখন নেই, তখন মিশনও থাকছে না। তাই নীতিনির্ধারণী কোনও লক্ষ্যও নেই। আমরা বাইরের চাকরির মার্কেট যাচাই করে কাউকে শিক্ষা দিই না। একই সঙ্গে শেখার আগ্রহ কমেছে। এটিও মানতে হবে। এসব নানাবিধ কারণে নেতৃত্বও আসেনি। যারা সত্যিকারার্থে যোগ্য তারা কিন্তু কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। এটি ভাবার বিষয়।’
উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউজিসির দায়িত্ব হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিশ্চিত করা। অসঙ্গতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। এই কাজে ইউজিসির যে অবকাঠামো দরকার তাতে ঘাটতি রয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনের প্রধান জটিলতা শুরু হয় সদস্য নির্ধারণ নিয়ে। এখানে কোনও সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। আর এই কমিশনকে পারিপার্শ্বিক চাপ সামলাতে হয় অনেক বেশি। এছাড়া, আমাদের কমিশনে লোকবলের অভাব। আবার যথাযথ লোক নিয়োগের ক্ষেত্রেও চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এই হচ্ছে সার্বিক অবস্থা। এক্ষেত্রে ইউজিসির কাজ করা খুব কঠিন।’
মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নিয়েছেন– ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ভাইস চ্যান্সেলর ড. এইচ এম জহিরুল হক, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তফা আজাদ কামাল এবং বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম।
আজকের বৈঠকি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) সৌজন্যে। বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা যাচ্ছে এ আয়োজন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম







