ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মেয়েদের পাঁচটি হলে ছাত্র সংসদের কল্যাণে ছাত্রীরা বেশ কিছু সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। হলের খাবারের মান উন্নয়ন, রাতে প্রবেশের সময় বাড়ানো, পাঠকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন, নিয়মানুযায়ী অভিভাবকদের প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছেন তারা। হলে অবস্থানকারী ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের পর ২৩ এপ্রিল জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেন হল সংসদগুলোর প্রতিনিধিরা। নির্বাচনের সময় হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা।
পাঁচটি হলের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে যে অবস্থা জানা গেছে-
শামসুন্নাহার হল:
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আফসানা ছপা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণের পর শামসুন নাহার হল সংসদে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব কাজ হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-হলের শাক-সবজির দাম বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মূল্য নির্ধারণ, পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ডাইনিং এবং ক্যান্টিনে মেলামাইনের প্লেট পরিবর্তন করে স্টিলের প্লেটের ব্যবস্থা, ক্যান্টিনে সব সময় একজন ডাইনিং বয় নিযুক্ত রাখা এবং বেসিনে একজন বেসিনবয় নিযুক্ত করা হয়েছে। খাবারের মান উন্নয়ন ও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক ফ্লোরে প্রতি রুমের সামনে ময়লার বালতি রাখা, যে ছাত্রী বারান্দা দিয়ে ময়লা ফেলবে তাকে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, ছাত্রীদের মায়েদের হলে প্রবেশাধিকার, ছাত্রীদের প্রয়োজন মতো ওষুধপত্রের ব্যবস্থা ইত্যাদি।
এই হলের আবাসিক ছাত্রী লুবনা জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খাবারের মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। মায়েরা হলে প্রবেশ করতে পারছেন। ডাইনিংয়ের উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি কাজ হয়েছে।’ তবে হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং দর্জির প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
রোকেয়া হল:
ছাত্রীদের মায়েরা হলে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি, হল গেট সাড়ে ৯টা থেকে বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা, জিমনেসিয়াম ব্যবহার, গেস্ট রুমে নতুন ফার্নিচার, রিডিং রুম দখল মুক্ত করার নির্দেশ, ৭ই মার্চ ভবনে পুরাতন চুলা সরিয়ে নতুন চুলা দেওয়ার ব্যবস্থা, লিফট রাত ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা ইত্যাদি কাজ হয়েছে বলে জানান রোকেয়া হলের ভিপি ইসরাত জাহান তন্নী।
এ বিষয়ে রোকেয়া হলের তৃতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম তিথি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হলে আমি দেখেছি কিছু কাজ হয়েছে। যেমন নতুন গ্যাসের চুলার ব্যবস্থা, খাবারের মান আগের চেয়ে উন্নত করা। এই কয়টি বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। অন্যগুলো সম্পর্কে এখনও জানি না।’
বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল:
বাথরুম-বেসিন সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ছিল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে বেশ কয়েকটি সমস্যা সমাধানের কথা জানান ওই হলের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে পুরো হলের প্রত্যেকটি ওয়াশরুম চেক করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যাগুলো লিখে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে হল সংসদ। পাঠকক্ষের প্রথম তলা, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলাসহ তিনটিতে ছাড়পোকা মারার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। রিডিং রুমে নতুন ঘড়ি দেওয়া হয়েছে। নতুন পাঁচটি ফ্যান দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হলের পুরাতন চুলা সরিয়ে নতুন চুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ছাত্রীদের অভিযোগ দেওয়ার জন্য একটি অভিযোগ বাক্স দেওয়া হয়েছে। মাস শেষে সাধারণ সভায় অভিযোগ বাক্সগুলো খোলা হবে। এই অভিযোগ বাক্সগুলো থেকে জানা হবে হলের সামগ্রিক সীমাবদ্ধতাগুলোর বিষয়ে।
এ বিষয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) রিকি হায়দার আশা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির ভিত্তিতে আমরা হল প্রশাসনের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব করেছি। এর মধ্যে কিছু কিছু ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আর কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওইসব কাজ শেষ হবে।’
এই হলের আবাসিক ছাত্রী সুমাইয়া তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হল সংসদ আসার পরে আগের চেয়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে। হলের ডাইনিং,রিডিং রুমসহ কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন এসেছে।’
বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল :
ছাত্রীরা জানান, গণরুমগুলো থেকে ক্রমানুসারে মেয়েদের আবাসিক করা হচ্ছে। এখন থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হল থেকে বের হতে ও ঢুকতে পারবেন ছাত্রীরা। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আইডি কার্ড দেখিয়ে অন্য হলের মেয়েরাও হলে প্রবেশ করতে পারবেন। ছাত্রীরা তাদের মা’দের হলে প্রবেশ করাতে পারবেন। খাবারের প্লেট, বাটি ও গ্লাস পরিবর্তন করা হয়েছে। ডাইনিংয়ের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন, রিডিং রুমের সাজসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাগুফতা বুশরা মিশমার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কবি সুফিয়া কামাল হল:
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন জানান, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের দাবির ভিত্তিতে ছাত্রীদের সুবিধার্থে বর্তমানে হলে প্রবেশের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। গেস্টরুম সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা, ভোর ৬ থেকে বেলা ১০টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধু মা-বাবা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ অভিভাবকদের জন্য হলের গেস্টরুম উন্মুক্ত রাখা, কোনও ছাত্রী অসুস্থ হলে প্রয়োজনে মা বা বোনকে রুমে তার সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত যেকোন ছাত্রী আইডি কার্ড জমা রেখে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হলে যাতায়াত করতে পারবে। অনাবাসিক ছাত্রীরা উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে হল অফিসে আবেদন করার মাধ্যমে রাতে অবস্থান করতে পারবে।








