মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মাদকের মামলা নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না করায় আইন সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মাদক মামলার এক আসামির জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার (৮ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পাশাপাশি এখতিয়ারবিহীনভাবে মাদক মামলার এক আসামির মামলা অন্য একটি কোর্টে পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৩-এর বিচারককে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ারও নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতে আসামির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুসরাত জাহান।
গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ইয়াবা ও হেরোইনসহ পুলিশের হাতে আটক হন মাসুদুল হক মাসুদ নামে এক ব্যক্তি। ওইদিন তার বিরুদ্ধে বংশাল থানায় দায়ের মামলায় গত ২২ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এরপর নিম্ন আদালতে জামিন চায় আসামি। জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন (রিভিশন মামলা) করে সে।
এই জামিন আবেদনের নথি পর্যালোচনাকালে হাইকোর্ট দেখতে পান, মাদক মামলাটি আমলে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। আর বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন ঢাকা মহানগর তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে।
কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারবে।’ (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই ধারার অধীন ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংশ্লিষ্ট জেলার যেকোনও অতিরিক্ত জেলা জজ বা দায়রা জজকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে।’
আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে আদালতকে জানান আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী। পরে আদালত মাসুদকে জামিন দেন এবং মাদকের মামলার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল না করায় দুই সচিবের লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেন।








