ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলা ছাত্রসমাজের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন,‘আমরা মামলা করলে মূল আসামি করা হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে।’ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছিল, তার তথ্য প্রমাণ রয়েছে ভিডিও ফুটেজে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করলেই হামলার সঙ্গে সঞ্জিত ও সাদ্দামের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসবে।’
ঘটনার পর আপনারা মামলা করেননি কেন—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘ডাকসুর ভিপি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন, সেজন্য দেরি হয়েছে। মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে জানতে পারলাম, পুলিশ মামলা করেছে। পুলিশ আমাদের না জানিয়েই মামলা করেছে। মামলার বিষয়টি পুলিশ আমাদের জানালে তাদের আগেই আমরা মামলা করতাম।’
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারে পুলিশের সহায়তা কামনা করছে। আমরা বলতে চাই, সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে, ঢাবি প্রক্টর গোলাম রব্বানির মদদে ও হস্তক্ষেপে। আমাদের ওপর প্রথমেই হামলা করেছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমি প্রক্টরকে ১০ বার কল দিই। তিনি তিনবার কল রিসিভ করে গালিগালাজ করেছিলেন। বারবার আকুতিমিনতি করার পরও তিনি আসেননি। ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের রুমের মধ্যে মার খাইয়েছেন। প্রথম দফা আক্রমণের সময় আমাদের উদ্ধার করলে আজ কাউকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে হতো না। হামলার সঙ্গে প্রক্টর জড়িত। আমরা এই দলকানা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।’… বলেন রাশেদ
ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কোটা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করা হয়েছিল। কারা সেটি করেছিল আপনারা জানেন। সেই সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা হয়েছিল, একইভাবে ভিপি নুরের কক্ষে হামলার ফুটেজও গায়েব করা হয়েছে। এটা কারা করেছে আপনারা তাও জানেন।’
সাদ্দাম হোসেনের ডাকসুর ভিপিকে মামলাবাজ বলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাদ্দাম নুরকে মামলাবাজ বলে অভিহিত করেছে। লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর একের পর এক হামলা করছে, আবার নির্লজ্জভাবে এসব কথা বলছে। এটা নিন্দনীয়। তারা এভাবে কথা বলতে পারে না। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’
চিকিৎসকদের প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন,‘কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কারণ এপিএম সোহেলকে যদি অপারেশন করা না হতো, তাহলে হয়তো এতক্ষণ তিনি জীবিত থাকতেন না। আমাদের না জানিয়ে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে অপারেশন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। দাবি মেনে না নেওয়া হলে আবার রাজপথে নেমে কর্মসূচি দেবো ।’ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।








