পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ২০১৯ সালে মোট ৯৪৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৬৬ জন। তাদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ২৬৯ জন এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৬৭৬ জন নিহত হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি) পরিচালিত ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি-২০১৯’ শীর্ষক এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শীর্ষস্থানীয় ১৫টি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর এবং ওশি’র উদ্যোগে মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে হতাহতের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, অগ্নিকাণ্ড, ভবন বা স্থাপনা থকে পড়ে যাওয়া, বজ্রপাত, বয়লার ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গৃহ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন এবং ধাতব আঘাতের কথা বলা হয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ২৯৪ জন নিহত হয়েছে। ১৫৬ জন শ্রমিক নির্মাণ খাতে, পোশাক শিল্পে ৪০ জন, কৃষিশ্রমিক ৯৮ জন এবং দিনমজুর মারা গেছেন ৪৯ জন। এছাড়া জাহাজ ভাঙা শিল্পে কর্মরত ২৩ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন কিছু সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধিত ২০১৮) ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এর আলোকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধানের কার্যকর প্রয়োগের লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানো, বয়লার পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি, বয়লার পরিদর্শন দফতরকে অধিদফতরে রূপান্তর, কর্মস্থলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ইউনিট চালু করার কথা বলা হয়েছে।








