গেল ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৩৮৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৬৩ জন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯৪৮ জন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের মধ্যে ৫২ জন শিশু এবং ৬৭ জন নারী রয়েছে। এছাড়া এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ১০২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৭ জন, যা মোট নিহতের ২৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ২৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। দেশের সাতটি জাতীয় দৈনিক, চারটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ২৯ শতাংশ। বাসযাত্রী-৩৯, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোর যাত্রী ৩৪, ট্রাক ও পিকআপভ্যান যাত্রী ২৫, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১১২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের ১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩২৯ জন, যা মোট নিহতের ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এরমধ্যে আঞ্চলিক সড়কে ২৩৬টি (৬১ শতাংশ) এবং মহাসড়কে ১৫১টি (৪৫ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৭৮টি। যা মোট দুর্ঘটনার ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা উল্টে দুর্ঘটনা হয়েছে ৮৬টি। যা মোট দুর্ঘটনার ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। সাইড দিতে গিয়ে ৬০টি, যা মোট দুর্ঘটনার ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩৬টি। যা মোট দুর্ঘটনায় ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭টি। যা মোট দুর্ঘটনার ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় দায়ী যানবাহনের সংখ্যা ৫৮৪টি। বাস-৮৭, ট্রাক ও পিকআপ-১০৪, কাভার্ডভ্যান-২১, লরি ও ট্রাক্টর-১৪, কার ও মাইক্রোবাস-৪৩, মোটরসাইকেল-১০২, বাইসাইকেল-১৩, রিকশা-২৮, নসিমন-করিমন-আলমসাধু-মাহেন্দ্র-১১৭, সিএনজি-ইজিবাইক-৩৮, ট্রলি-৪ ও অন্যান্য যানবাহন ১৩টি। এছাড়া ৪৭টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন। সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতেও বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়াতে হবে; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা সাইড রাস্তা তৈরি করতে হবে, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমাতে হবে, বারবার কমিটি গঠন এবং সুপারিশমালা তৈরির চক্র থেকে বেরিয়ে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পোষণ করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও আহত-নিহতের পরিমাণ সবই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জানুয়ারি মাসে ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৫ জন নিহত ও ৮৩৪ জন আহত হন।








