বিলম্বে বিচার ও মামলাজট গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা: রাষ্ট্রপতি

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৫:৪৮আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ২২:০৭

জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৫ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে- বিলম্বে বিচার ও মামলা জট। এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার। দায়িত্বপালনে নিরপেক্ষ থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকরা সর্বোচ্চ আন্তরিক হবেন- জনগণ তা প্রত্যাশা করে।
আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি আবেদনের শুনানি সমাপ্তের পর বা মোকাদ্দমার যুক্তিতর্ক শুনানির পর আদেশ লাভে যাতে বিলম্ব না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে বিচার বিভাগের প্রতি যেমন জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বিচারকরাও বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকবেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড’- এ নীতিবাক্য আমাদের বিচার ব্যবস্থায় প্রচলিত থাকুক আমরা তা আর চাই না। তিনি উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ডিজিটালেজাইশেনে প্রশংসা করেন। অনলাইনে জামিন আদেশ নিশ্চিত করাকে জনদুর্ভোগ কমাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু নানা কারণে জনগণ সে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। মানুষের শেষ ভরসার স্থল বিচার বিভাগ। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা-মোকাদ্দমার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করার বিষয়ে তাগিদ দেন তিনি।

বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের অপরিহার্য কাঠামো উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচারকার্যের মাধ্যমে বিচার বিভাগ গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিচ্ছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচারকরা জাতির বিবেক। তাই সংবিধান, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা, দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন বলে রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন।

বিচারক ও মামলার সংখ্যায় ভারসাম্য আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচারকার্যে কাঙ্ক্ষিত গতি বাড়াতে পর্যাপ্ত বিচার কক্ষ, বিচারকের শূন্যপদে নিয়োগ এবং বিচারক ও মোকদ্দমার সংখ্যায় যুক্তিসঙ্গত ভারসাম্য রক্ষা করা আবশ্যক।

তিনি বলেন, মামলা পরিচালনায় আইনজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই অহেতুক বিলম্ব বা অত্যাধিক আর্থিক চাপের কারণে বিচার কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিচারপ্রার্থীরা যাতে ন্যায় বিচার পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ২০০৫ সালে ১৪ নভেম্বর বোমা হামলায় নির্মমভাবে নিহত ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ জগন্নাথ পাঁড়ে এবং মো. সোহেল আহমেদের পরিবারকে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ নিহত দুই বিচারকের স্ত্রীর হাতে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য জ্যেষ্ঠ জেলা জজ মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা। বাসস।

/এএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি