২২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে ২২ পিস ইয়াবার কথা উল্লেখ করে জামিন নেওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, গােপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চার কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন পাটোয়ারী শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) এজাহার পৌঁছালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা তা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন মাে. জাকির হােসেন মােল্লা (গােপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা), জাহিদুল ইসলাম (প্রধান তুলনা কারক), তপন বিশ্বাস (সহকারী তুলনা কারক), অগস্তা বাইন (অফিস সহকারী), মােস্তফা কামাল (সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী), মাে. কামরুল ইসলাম (শিক্ষানবিশ আইনজীবী), সফিউল্লাহ খান, মনির হােসেন, মাে. আলী ফকির ও দাউদ মােল্লা।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাদক মামলার আসামি শফিউল্লাহ খান গত ৬ নভেম্বর জামিন পান। জামিন নামা আদেশ নিম্ন আদালতে (গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) পাঠানো হয়। এরপর আসামি শফিউল্লাহ খানের জামিননামা দাখিল করলে তা গ্রহণ করা হয়। এসময় আদালতের দৃষ্টিতে আসে যে, আসামির দখল থেকে ২২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ থাকলেও হাইকোর্টের আদেশে ২২ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা রয়েছে। এরপর গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অবহিত করেন। এরপর রেজিস্ট্রার জেনারেল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জামিন দেওয়া বিচারপতিদের অবহিত করেন।
অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত হয়। উক্ত তারিখে আইনজীবী ছিলেন মাে. মােস্তফা কামাল। তিনি আদালতকে জানান যে, আলী ফকির এবং দাউদ মোল্লা তার জুনিয়র মাে. কামরুল ইসলামকে ওই কাগজপত্র হস্তান্তর করে। উক্ত কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে আদালত দেখতে পায় যে, সইমুহুরি নকল সমূহ যিনি টাইপ করেছেন তার নাম উল্লেখ নেই। কিন্তু তুলনা সহকারী তপন বিশ্বাস, প্রধান তুলনা কারক মো. জাহিদুল ইসলাম এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাে. জাকির হােসেন মোল্লা তাদের সিল ও সই দিয়েছেন। পরবর্তীতে জানা যায় যে, নকলটি অগস্তা বাইন টাইপ করেছিলেন। উপরােক্ত জাল কাগজগুলো আসামিরা পরস্পর যােগসাজসে তৈরি করে আদালতে দাখিল করে জামিন নিয়েছে, যা দণ্ডনীয় অপরাধ। উক্ত জাল-জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার জন্য আদালত নির্দেশ দেন।







