উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যাক্রিডিটেশন আইন -২০১৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রবিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৫’ এর খসড়া চূড়ান্তের জন্য ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নিশ্চিত করার জন্য শিগগিরই অ্যাক্রিডিটেশন আইন চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শের পর এই আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত আইনে রূপান্তর হবে।’
এই আইনে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসঙ্গে নিয়ে আসার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মোট ১২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে সরকারি ৩৮টি এবং বেসরকারি ৮৯টি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি ভালো কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা সচিব মো. সৌরভ হোসাইন, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা) এর ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এমাজউদ্দিন আহম্মেদ, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর জামিলুর রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুন নবী প্রমুখ খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ।
উল্লেখ্য,অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের বিষয়টি এক সময় শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই আইনের মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে সরকার। এরই আলোকে ১২ বছর আলোচনা এবং পর্যালোচনার পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
অ্যক্রিডিটেশন আইনে বলা হয়েছে, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রিকালচার, বিজনেস, আইন, সোস্যাল সায়েন্স, আর্টস, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স, ইত্যাদি বৃহত্তর ডিসিপ্লিনের জন্য আলাদা আলাদা কমিটি থাকবে।
এ আইনে শর্ত ভঙ্গের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে দোষ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনধিক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।
/এসআইএস/এস/এমএসএম








