X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯
যৌথ মতামত

জয় করে ভয় যায় না কেন?

আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ২৩:০৪

ইতিহাস বলছে যখনই কোনও জয়ী শক্তি পরাজিত অপশক্তির সঙ্গে আপস-মীমাংসায় উপনীত হয়েছে, তখনই পরাজিত শক্তির ছোবল মারার সুযোগ হয়েছে। খ্রিষ্টের জন্মের বেশ কিছু পূর্বে বিখ্যাত গলাডিয়েটর স্পার্টাকাস বেশ কয়েক হাজার দাসকে একত্রিত করে যখন রোমান সাম্রাজ্যকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সে সময়ই একটি ভুল সিদ্ধান্তের দ্বারা রোমান সেনাপতি মারকাস লিমিনাস ক্রেমাসের সঙ্গে সন্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পার্টাকাস শুধু পরাজিতই হননি, নিহতও হয়েছিলেন। অথচ বিজয়ের মুহূর্তে রোমানদের সঙ্গে সন্ধি করার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। অকটিভিয়াসের সঙ্গে সন্ধি করতে গিয়েই ক্লিওপেট্রার পরাজয় হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। বাবর যখন মাত্র  ২১ হাজার সৈন্য নিয়ে ভারত আক্রমণ করেন ইব্রাহিম লোদির দুই লক্ষাধিক সৈন্যের বিরুদ্ধে, তখন এত বেশি সৈন্য সত্ত্বেও ইব্রাহিম লোদির পরাজয়ের একটা বড়  কারণ ছিল যথাসময়ে বাবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়া। পলাশীর যুদ্ধেও মীরজাফরের কূট পরামর্শের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যদি নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ সৈন্যদের শিবিরে ফেরার নির্দেশ না দিয়ে মীর কাসেম-মোহন লালের পরামর্শ অনুযায়ী বিরতি না দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন, তাহলে ভারতবর্ষের ইতিহাস ভিন্ন হতো। নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ কলকাতায় ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্গের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালানোর পরেও কোম্পানির সঙ্গে আপস চুক্তি না করে কোম্পানিকে উচ্ছেদ করে দিলে, যে সুযোগ নবাবের ছিল, হয়তো কোম্পানি বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা জয় করতে পারতো না। ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকারীরাই সাধারণত সফল হয়ে থাকে। সে অর্থে আজ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পরাজিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অযাচিত এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে আপস প্রক্রিয়ায় যায়, তাহলে যে ভুলটি হবে, তা শুধু বর্তমান সরকারের জন্যেই নয়, বরং গোটা দেশের জন্যেই হবে ভয়াবহ। সরকার বর্তমান যে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। কিন্তু তারপরও শঙ্কা কিন্তু আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তার কারণ ক্ষমতায় থাকা দলের অনেক সিদ্ধান্তকারী নেতাই চুপ করে আছেন, যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ হাতে গোনা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য রাখঢাক না রেখেই হেফাজত এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছেন,তাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে দিয়েছেন। এখন যেমন সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সম্পূর্ণ অপদস্থ ধর্ম ব্যবসায়ীরা এক কথায় বিধ্বস্ত, ঠিক একইভাবে কিন্তু তারা ২০১৩ সালের ৫ মে’ও মর্মান্তিকভাবে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু তারপরও আশ্চর্যজনকভাবে বিজয়ী সরকার পরাজিত অপশক্তির সঙ্গে আপস করেছিল, পরাজিত অপশক্তির অনেক অযৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে যেগুলো কিনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সেই অভাবনীয় আপসের ফলে দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তারই ফল আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেদিন ধর্ম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আপস না করলে তখনই তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত, উঠে দাঁড়াবার শক্তি হারিয়ে ফেলতো। কিন্তু আপসের ফলে তাদের আর্থিক শক্তি, পেশীশক্তি এবং জনবল বেড়েছে গত বারো বছরে। আর তাই তারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নস্যাৎ করার, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ধ্বংস করার, জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে ফেলার সাহস এবং শক্তি পেলো। পরাজিতদের সঙ্গে আপস করার এই ধরনের উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল। পরাজিতরা যে বিষধর সাপের মতো, সুযোগ পেলেই ছোবল দেবে একথা ইতিহাস বহুবার প্রমাণ করেছে। জহিরুদ্দিন বাবর তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি সেনা শক্তিসম্পন্ন পাঠান সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করেই থেমে যাননি, লোদিকেও বহুদূর পর্যন্ত ধাওয়া করেছিলেন। লোদির সৈন্যদের প্রকাশ্যে হত্যা করে এমন এক ত্রাসের সৃষ্টি করেছিলেন, যার ফলে লোদির অনুসারীরা আর সাহস পায়নি এবং মোগলরাও ভারতবর্ষ কয়েক শতক রাজত্ব করতে পেরেছিলেন। ফরাসি বিপ্লব, বলশেভিক বিপ্লব, কিউবান বিপ্লব, চীনের বিপ্লবের পর যদি প্রতিবিপ্লবীদের শেষ করে দেওয়া না হতো, তাহলে সেসব বিপ্লবের ফল দীর্ঘস্থায়ী হতো না। এমনকি সহযোদ্ধা ট্রটস্কিকেও লেনিন বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ট্রটস্কি এক ভিন্ন মতবাদ প্রচার করে লেনিনের অবস্থানকে হুমকিতে ফেলতে পারেন। পরবর্তীতে ট্রটস্কির পরিণতি হয়েছিল আততায়ীর হাতুড়ির ঘায়ে জীবনাবসান। ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাতিস্তা অনুসারীদের চিহ্ন পর্যন্ত রাখতে দেননি। কামাল আতাতুর্কও কঠিন হাতে দমন করেছিলেন ওহাবি তথা খেলাফত অনুসারীদের।

কিন্তু চিলির সালভাদর আয়েনবে এবং ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ শুরুতেই প্রতিক্রিয়াশীলদের দমন না করায় নিজেরাই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। কঙ্গো’র পেট্রিস লুমুম্বারেরও একই কারণে মৃত্যু হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বিশাল মনের অধিকারী, কিন্তু প্রতিবিপ্লবীদের হুমকি সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন বলেই শুরুতেই তিনি দালাল আইন করে কয়েক হাজার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীকে কারারুদ্ধ করেছিলেন, দালাল আইন প্রবর্তন করে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। যেসব স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের ফিরে আসার পথ বন্ধ করেছিলেন, ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন করেছিলেন। কিন্তু তার সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পাকিস্তান-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তা এবং নির্দেশনায় জিয়া-মোশতাক-ওবায়েদ-মোয়াজ্জেম-চাষি-ঠাকুর প্রমুখের ষড়যন্ত্রে তিনি নিহত হওয়ায় সব ভেস্তে গিয়েছিল। জিয়া-মোশতাক গং উঠে পড়ে লেগেছিল ৭১-এর যুদ্ধের ফসল ঘুরিয়ে দিয়ে দেশকে আবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্মিলিত করার। জিয়া-মোশতাক গংদের অপচেষ্টা সফল না হলেও তারা সে উদ্দেশ্য সফল করার জন্য যতটুকু এগোতে পেরেছিল, তার কারণেই দেশের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। যার মাশুল এখন আমরা দিচ্ছি। এক কথায় জিয়া এ দেশের যে ক্ষতি করেছে, ব্রুটাসও রোমের তত ক্ষতি করেনি। তার সাধিত ক্ষতির সঙ্গে একমাত্র মীরজাফর দ্বারা সাধিত ক্ষতির তুলনা হতে পারে। জিয়া শাসনভার জবর দখল করার পরেই ৭১-এ পরাজিতদের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়। দালাল আইন নস্যাৎ করে যেসব বন্দি তখনও আটক ছিল, তাদের মুক্তি দেয়। গোলাম আজমসহ সব যুদ্ধাপরাধীর শুধু ফেরার পথই করে দেয়নি, তাদের সম্পদের পাহাড় গড়ারও সুযোগ করে দিয়েছিল। ৭১-এর পরাজিতদের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে শুরু করে বহু পদে বসিয়েছিল। জিয়ার প্রত্যক্ষ মদতে ৭১-এর পরাজিতরা দ্রুতগতিতেই তাদের আর্থিক শক্তি এবং জনবল বর্ধন করে হুমকি প্রদান করার মতো শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ ২৫ বছর পাকিস্তান জিন্দাবাদের ধারকরা দেশ শাসন করার কারণে ওই অপশক্তির লোক এবং তাদের বংশধরদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকলেও, তারা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো ক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি। তার কারণ তাদের পেছনে জনসমর্থনের অভাব ছিল। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষই ধর্মভীরু বটে, কিন্তু তারা ধর্মান্ধ নন–, যা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এবং তৎপূর্ববর্তীতে নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণিত হয়েছিল।

বঙ্গভূমির হিন্দু এবং বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী দলে দলে ইসলাম ধর্ম  গ্রহণ করেছিল তুর্কি বংশীয় বাংলার শাহী সুলতানের রাজত্বকালে আনুমানিক ১৫ শতকে। আজকের উভয় বাংলার মুসলমানদের প্রায় সকলেই সেই সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করাদের বংশধর। তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তুরস্ক, ইয়েমেন প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আসা সুফি মুসলিম দরবেশদের আহ্বানে, যারা মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি, ইবনে সিনা প্রমুখ সুফি সাধকদের অনুসারী। আর এই সুফি মতবাদ হলো শান্তির মতবাদ। সে মতবাদে আকৃষ্ট হয়ে, এবং অন্যান্য কারণে লক্ষ লক্ষ হিন্দু-বৌদ্ধ ইসলাম গ্রহণ করে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবতা এবং সৌহার্দের পরিবেশ বজায় রাখায় অবদান রেখেছিলেন। সিপাহী বিপ্লবের পর ইংরেজ শাসকেরা ডিভাইড অ্যান্ড রুল পরিকল্পনা কার্যকর করার আগ পর্যন্ত এ দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ সম্প্রীতির সঙ্গে একত্রে বসবাস করেছেন হাজার বছর ধরে। রাম-রহিমের চিরন্তন সম্প্রীতির কথার উল্লেখ রয়েছে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন পর্যায়ের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে। রয়েছে লালন-হাছন-শাহ করিমের গানে, রয়েছে চণ্ডিদাসের কবিতায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শ্রী চৈতন্য দেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখের স্মরণিকায়।

ধর্ম ব্যবসায়ীরা দেশের ৮ শতাংশের বেশি লোকের ভোট পায় না। তারা শক্তি প্রদর্শন করে থাকে জঙ্গিবাদ আর ধ্বংসাত্মক মিছিলের মাধ্যমে, যার জন্য তারা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে থাকে মাদ্রাসার অবুঝ অল্প বয়সী ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে, মগজ ধোলাই করে। মাদ্রাসার এসব অবুঝ ছাত্ররাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের শক্তি।

এটা স্বীকার করতেই হবে যে এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের নির্মূল করা ৭৫ -এর আগে যতটা সহজ ছিল এখন ততটা নয়। তবে তাদের পরাস্ত করা অসম্ভব এটাও ঠিক নয়। একটি দেশের সরকার অন্য কোনও শক্তিকে পরাস্ত করতে না পারলে সে রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলা হয়। পাকিস্তান যার উদাহরণ। বাংলাদেশে সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। বিশেষ করে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতি জনসাধারণের নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণে, সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রই নিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে। অনেকে ছায়াকে ভুলে ভূত ভাবছে, যা ঠিক নয়। আজ যদি এই জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার এই ধর্ম ব্যবসায়ী এবং ৭১-এর পরাজিত অপশক্তিকে নির্মূল করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তারা পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। যার নজির আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি। সরকার দৃঢ় হওয়ার পর, তাদের ধর-পাকড়ের পর, তারা যে হিমশীতল হয়ে পড়েছে, তা তো সকলেই দেখতেই পাচ্ছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে দলে দলে হেফাজত থেকে পদত্যাগ করছে। কেউ কেউ দেশ ছেড়েও পালাচ্ছে। মাত্র কিছু দিন আগেও সরকার উৎখাতের হুমকি দেওয়া মামুনুল-বাবুনগরী গং মন্ত্রিপাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল এই বলে, ‘ভিক্ষা চাই না কুকুর সামলান।’

তারা যে কতটা দুর্বল তা ধরা পড়ে গেছে। বাবুনগরী-মামুনুল খুদে বক্তা রফিকুল মাদানিসহ অন্যান্য যেসব ওয়াজ ব্যবসায়ী লাফিয়ে লাফিয়ে ভাষণ দিয়ে মাঠ গরম করতো, তাদের কণ্ঠস্বরে এখন আর ব্যগ্র গর্জন নেই, হয়ে গেছে বিড়ালের মিউ মিউ। ঠিক কিছু খাবার পাবার জন্য বিড়াল যেমন শব্দ করে, ঠিক সেভাবেই ‘ক্ষমা করো প্রভু’ রবই শোনা যাচ্ছে তাদের শব্দনালি থেকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকালেও তারা একই অভিনয় করেছিল। বলেছিল, সাঈদির কিছু হলে দেশে আগুন জ্বলবে। সাকার ফাঁসি হলে চট্টগ্রাম আলাদা হয়ে যাবে। তারা চেষ্টা করেছিল আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও চাপ সৃষ্টির। সেখানেও তাদের ব্যর্থতার ছাপ নিয়েই ফিরতে হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ফোন করে তখন চুপসে গিয়েছিলেন যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না। ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রিয় পাকিস্তান নির্লজ্জের মতো তাদের পার্লামেন্টে বিরূপ প্রস্তাব পাস করলেও তাতে আমাদের কারোরই রাতের নিদ্রা বা প্রাতরাশ বিঘ্নিত হয়নি। তাই এই অপশক্তি এখন আর বিদেশের দিকে তাকিয়ে লাভ হবে না বলেই নিশ্চিত হয়েছে।

নতুন মার্কিন প্রশাসন আর সে ভুলটি করবে না, যা ট্রাম্প করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বিদেশ নীতিতে হয়েছে আমূল পরিবর্তন এবং নতুন মেরুকরণ। একদিকে সৌদি আরব আর অন্যদিকে তুরস্ক নিজেদের প্রাধান্য এবং প্রভাব বলয় বিস্তারেই বেশি ব্যস্ত। সুতরাং, সেখানেও লাভের খাতায় শূন্যই থাকবে। পাকিস্তান তাদের দেউলিয়াত্বের এতই কাছাকাছি যে তাদের রাজধানীর সবচেয়ে বড় পার্কটি বর্গা দিতে হয়েছে সৌদি আরবের কাছ থেকে টাকা ঋণ করার জন্য। তাদের শ্রেষ্ঠতম বন্ধু চীনও আর টাকা দিচ্ছে না, বরং পূর্বের ঋণের টাকা ফেরত চাচ্ছে। তারা এখনও জঙ্গি রফতানিকারক দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত, যার কারণে তিন মাস আগেও জঙ্গি অর্থায়ন তদারকির জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন  টাস্কফোর্স’ পাকিস্তানকে আবার ধূসর তালিকাভুক্ত করেছে। তারপরও পাকিস্তান তাদের ৭১ -এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিজস্ব আর্থিক দুরবস্থা সত্ত্বেও এখনও মুখিয়ে আছে এবং সম্ভবত অনাদিকালই থাকবে। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা যে এখনও আমাদের দেশের ধর্ম ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন করছে তা মামুনুল হকের স্বীকারোক্তি থেকেই জানা গেছে। ২০১৫-২০১৬ সালে যেমন পাকিস্তানি দূতদের জঙ্গি অর্থায়নকালে হাতেনাতে ধরে বহিষ্কার করা হয়েছিল, এখনও তেমনি সচেতন থাকা উচিত। আমাদের সরকার এবং গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নজর রাখতে হবে পাকিস্তানি দূতাবাসের ওপর।

একাত্তরে পরাজিত এই অপশক্তিকে সমূলে নির্মূল করার এই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করলে তা আর নাও আসতে পারে। লালনের ভাষায়, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। আমরা আনন্দিত যে ধর্ম ব্যবসায়ীরা আপসের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ধরনা দিলেও মন্ত্রী মহোদয় তাদের কথায় কান দেননি বলেই এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে। কারণ, গ্রেফতার চলছে।

খেলাফতের পতনের পর কামাল আতাতুর্ক যেভাবে ধর্মান্ধদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক নতুন তুরস্কের জন্ম দিয়ে ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’ হিসেবে পরিচিত তুরস্ককে উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীদের সমান অধিকার, বাধ্যতামূলক হেজাব পরার বিলুপ্তি, নারীদের সনাতন পোশাকের পরিবর্তন এবং মোল্লাদের দ্বারা কোণঠাসা হওয়া তুর্কি সংস্কৃতির মর্যাদা নিশ্চিত করেছিলেন। আরবিই মুসলমানদের একমাত্র ভাষা বলে যে দাবি মোল্লারা করেছিল তা নির্ভয়ে প্রত্যাখ্যান করে তিনি তুর্কি ভাষায় এবং তুর্কি হরফে কোরআন লেখার নির্দেশ দিয়ে মোল্লাকুলের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছিলেন। তিনি শুক্রবারের স্থলে রবিবারকে ছুটির দিন করেছিলেন। তুর্কি ভাষায় আজানের নিয়ম করেছিলেন। ৬০-এর দশকে আরবি ভাষায় আজান প্রবর্তনের অপরাধে ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লাদের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে ১৯৬১ সালে আইয়ুব খান এক যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, যার দ্বারা পুরুষের বহু বিবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ টানা হয়, হিল্লা বিয়ে বেআইনি করা হয়, পিতা মৃত সন্তান কর্তৃক পিতামহের সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া শুধু তিন তালাকে ঘোষণার মাধ্যমে তালাক অগ্রহণযোগ্য করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার আহমদ সুকর্ন মোল্লাদের প্রতিরোধ করে বহু সংস্কার এনেছিলেন। পূর্ব ইউরোপের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহে যে ধর্মান্ধতার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে আবহ বিরাজ করছিল, যুদ্ধের পর সেসব দেশেও ধর্মান্ধদের সাফল্যের সঙ্গে দমন করা হয়।

একটি প্রবাদ আছে ‘লাথির কাঁঠাল লাথি না হলে পাকে না।’ স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, জঙ্গি সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য এই কথাটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। একটু সুযোগেই মাথাচাড়া দেওয়া যেমন এদের স্বভাব, অন্যদিকে লাঠি দেখালেও এদের পালাতে সময় লাগে না। ইদানীং সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে এরা গাঢাকা দিয়েছে বলে– এরা শেষ হয়ে গেছে ভাবার কোনও কারণ নেই। তারা যতই যা বলুক না কেন তারা শুধরিয়ে গেছে একথা ভাবার কোনও অবকাশ নেই। এরা ভোল পাল্টিয়েছে মাত্র সাময়িক আত্মরক্ষার জন্য। সুযোগ পেলে তারা আবার তাদের হিংস্র চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহের বিভিন্ন বাঁকে বাঁকে আমরা এদের চেহারা দেখেছি। এরা কখনও কুৎসিত মুখব্যদান নিয়ে, কখনও বা ছদ্মবেশে হাজির হয়েছে। আমাদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা থেকে অপরাজনীতির কুশীলবদের চেহারা প্রত্যক্ষ করি, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার, ধর্মের রাজনীতি নিষিদ্ধের। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী পুরনো শকুনেরা আবারও খামচে ধরেছিল আমাদের সাংবিধানিক অর্জনকে। এরপর দিন দিন এই অপশক্তি জগদ্দল পাথর হয়ে দেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষের বুকের ওপর চেপে বসার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা পঁচাত্তরে যা দেখেছি, ৮১-তেও তা-ই দেখেছি, ৯০-এর পরেও একই চিত্র। এই অপশক্তি দুর্বল হলেও গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো বারবার নতুন জীবন পেয়ে উড়ে আসার চেষ্টা করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ মানুষকে বিভ্রান্তির আবর্তে নিক্ষেপ করার মানসে। আমরা যখন বারবার আন্দোলনের ভেতর দিয়ে এক ভ্রান্তির নাগপাশ ছিন্ন করছি, ঠিক তখনই বিভ্রান্তির আর এক অক্টোপাস আমাদের আটকে ধরার চেষ্টা করছে, সাধারণ মানুষকে নিমজ্জিত করার চেষ্টা করছে বিভ্রান্তির অতল সাগরে। এক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করতে না করতেই আর এক ষড়যন্ত্রের জালে আটকে পড়তে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। কখনও স্বৈরতন্ত্র, কখনও গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র, কখনও ছদ্মবেশী সামরিক শাসন, কখনও বা প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন। কায়েমি স্বার্থবাদীরা যখনই দেখেছে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য হয়ে যাচ্ছে বিপজ্জনক বিলাসিতা, সেই মুহূর্তেই তারা সেই ছদ্মবেশের আবরণ ছিন্ন করে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্মের রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িকতার কাঠামোতে অধিকতর কঠোর চেহারা দিয়ে জনগণের সামনে হাজির করেছে। আজকের মামুনুল হক বা বাবুনগরী তাদের থেকে আলাদা কিছু নয়।

ধর্মের রাজনীতি যে রাজনীতির ধর্মকে নষ্ট করে, বিবেকের সত্যনিষ্ঠাকে গলা টিপে হত্যা করে, সৎচিন্তা বা সুচিন্তার নাভিশ্বাস তুলে তা অনস্বীকার্য। সম্প্রতি পশ্চিম বাংলাভিত্তিক উভয় বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় চিত্র নায়ক দেব বলেছেন, ‘ধর্মের জয় হলে মানবতা হেরে যায় আর মানবতার জয় হলে ধর্ম বেঁচে থাকে।’ কথাটি যে কত বড় দর্শনভিত্তিক তা অনুধাবন করার জন্য বড় তাত্ত্বিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিত্রনায়ক দেব যে এত বড়মাপের একজন চিন্তাবিদ তা হয়তো আমরা কখনও জানতেও পারতাম না। যাইহোক, যারা ভাবছেন বাবুনগরী বা মামুনুলের চৈতন্যোদয় হয়েছে, তারা কিন্তু এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের মূল পরিকল্পনা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ধর্মের আড়ালে রাজনীতি করা এবং ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক শক্তি অর্জনে সব সময়ই তাদের এক হাত গলায় থাকলে, আরেক হাত থাকে পায়ে। প্রয়োজনে তারা পদসেবাও করার জন্যে প্রস্তুত থাকলেও, সুযোগ পেলেই কণ্ঠরোধে এগিয়ে যায় এবং তা করার জন্য যতটা নির্মম হওয়া প্রয়োজন তা হতে তাদের কখনও দেরি করতে হয় না। তারা ধর্মীয় সংস্থা বলে সোচ্চার হলেও তাদের আসল উদ্দেশ্য যে ক্ষমতা দখল, তার প্রমাণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আমরা দেখেছি ৭৫-এ  বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়া কীভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছে, কীভাবে এরশাদ তাদের তোয়াজ করেছে, কুখ্যাত রাষ্ট্রধর্ম বিধান জারি করে দেশের মানুষকে বিভাজিত এবং বিভ্রান্ত করে ধর্মান্ধতার চাষ করেছে, ঘাতক দালালেরা কীভাবে মানবতার বহ্নুৎসব করেছে, খালেদা জিয়া কীভাবে তাদের সমস্ত সমাজ এবং প্রশাসন যন্ত্রে বিস্তারিত করেছে, কীভাবে তারা সমাজ এবং প্রশাসন যন্ত্রকে কব্জা করেছে।
এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়। মুসলিম ব্রাদারহুড কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যেও ক্ষমতা দখলের তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছিল, কীভাবে কামাল আতাতুর্কের অসাম্প্রদায়িক দর্শন চুরমার করেছিল, কীভাবে আফগান জনগণের ওপর তালেবানের অভিশাপ নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কীভাবে ইরানের একসময়ের অগ্রগামী সমাজ কালো আবরণে ঢাকা পড়ে যায়, যার সব বিবরণই ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে এই ধর্মবাদী গোষ্ঠীর উত্থানের ক্ষেত্রেও এই সত্যটি সব সময় মনে রাখতে হবে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে যায়, কোনও সভ্য সমাজে এমনকি আমেরিকা, ইউরোপ কিংবা গণতান্ত্রিক দেশ ভারতেও কোনও সাম্প্রদায়িক এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কোনও সাংবিধানিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। কিন্তু বেদনার বিষয় হচ্ছে, যারা এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, অস্তিত্বের বিরোধিতা করেছিল, সাংস্কৃতিক অধিকারের বিরোধিতা করেছিল, তাদের শুধু প্রশ্রয়ই দেওয়া হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে পুরস্কৃতও করা হয়েছে। যার প্রমাণ জিয়া এবং খালেদা কর্তৃক যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব প্রদান, জিয়া কর্তৃক কুখ্যাত রাজাকার শর্ষিনার পীরকে স্বাধীনতা পুরস্কার ইত্যাদি–। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি ক্রমান্বয়ে অবক্ষয়ে যাচ্ছে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। দেশটাকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, আমাদের পতাকাকে যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, তাদের রাজনীতি থেকে বহিষ্কার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাজনীতি হচ্ছে সামগ্রিকভাবে মানুষের অধিকার আর ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তি বিশেষের বিশ্বাস। কাজেই ব্যক্তির বিশ্বাস উপাসনালয়ে রাখাই সবার জন্য মঙ্গলকর, তাকে রাজনীতির ময়দানে এনে কায়েমি স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফল ভয়াবহ। যারা এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট ঐক্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক অস্ত্র। সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্ঘবদ্ধ ঐক্যই হতে পারে সব প্রতিরোধের হাতিয়ার।
সুনামগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে কত ধর্ম ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনে ঢুকে পড়েছে, পুলিশ এবং প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীরা বসে আছে। বঙ্গবন্ধু একসময় অপশক্তি এবং ধ্বংসাত্মকদের নির্মূল করার জন্য লাল ঘোড়া দাবড়াতে চেয়েছিলেন, সেই লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে স্বাধীনতাবিরোধী ধর্ম ব্যবসায়ীদের উৎখাতের এটাই সর্বোত্তম সময়।
সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে ধর্ম ব্যবসায়ী, ৭১-এর পরাজিত অপশক্তির হায়েনারা ভেঙে পড়েছে। আগের সেই যুদ্ধাংদেহী সুর বা ভাবভঙ্গি তাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। আজকে তারা বলে কিনা তাদের গায়ে হাত দিলে সরকারের পতন ঘটাবে। কিন্তু মামুনুলসহ কিছু হেফাজতিকে গ্রেফতারের পরেও তারা প্রতিরোধ তো দূরের কথা, বরং রাতের অন্ধকারে দৌড়ে চলে গেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে আপসের প্রস্তাব নিয়ে। তাদের মুখে এখন একটাই কথা, আর গ্রেফতার নয়। তারা রাজনীতিতে নাক না গলানোর কথা বলছে।
লেখকদ্বয়: ১। আবেদ খান, একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং ২। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

 

 

/এফএএন/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
১৩২টি পশু নিয়ে ঢাকার পথে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
১৩২টি পশু নিয়ে ঢাকার পথে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
সচিব হলেন তিন কর্মকর্তা
সচিব হলেন তিন কর্মকর্তা
যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে সেতু
যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে সেতু
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
এ বিভাগের সর্বশেষ