বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) শূন্য পদের সংখ্যা এক হাজার ৮৭৭টি। সংস্থার বিভিন্ন শ্রেণির চার হাজার ৭৮০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে দুই হাজার ৯০৩ জন।
বুধবার (৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তোলা এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, মাহফুজুর রহমান এবং মো. আছলাম হোসেন সওদাগর অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে থেকে পাওয়া তথ্য মতে, বিআইডব্লিউটিসি’র প্রথম শ্রেণির ১৭০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ১৩১ জন, শূন্য ৩৯টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৩৮টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৪০ জন, শূন্য আছে ১৯৮টিতে। তৃতীয় শ্রেণির দুই হাজার ২৯২টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৩৭৬টিতে, শূন্য আছে ৯১৬টি। চতুর্থ শ্রেণীর এক হাজার ৮৮০টি পদের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ১৫৬টিতে এবং শূন্য আছে ৭২৪টি পদ।
শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিআইডব্লিউটিসির বিগত ৫ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। তথ্য মতে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা লাভ করেছে। অবশ্য কমিটি এই হিসাবকে অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে পরবর্তী বৈঠকে আয়-ব্যয়ের বার্ষিক বিবরণী পৃথকভাবে তোলার সুপারিশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা আয়-ব্যয়ের যে হিসাব দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে। কোন নৌযান কতদামে কেনাকাটা হয়েছে তা তাদের প্রতিবেদনে জানার সুযোগ নেই। এজন্য আমরা পরবর্তী বৈঠকে এটার বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছি।
বিআইডব্লিউটিসি’র পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলের জন্য দুটো জাহাজ কিনছে। কিন্তু এটা কতটা কার্যকর হবে তা চিন্তা করা হয়নি। পদ্মা ব্রিজ হওয়ার পরে খুলনা যেতে ৪/৫ ঘণ্টা সময়ও লাগবে না। সেখানে মানুষ নৌপথে ১৪/১৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে যাবে কিনা সেটা ভাবা দরকার ছিলো।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে কমিটি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি পাশের সুপারিশ করে সংসদে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।
বৈঠকে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে এবং দ্রুততম সময়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া নদীতে পলি জমার কারণ উদঘাটনে দেশি/বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্ট্যাডি করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।









