যশোরের মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মহিউদ্দিন আহমেদকে ১৯৮৫ সালে এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানোর ঘটনায় কেন তাকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুণ জারি করেছেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধিভুক্ত যশোরের শহীদ মশিউর রহমান কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মহিউদ্দীন আহমেদ। ১৯৮৮ সালের ১৬ এপ্রিল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু পাসের তালিকায় নিজের রোল নম্বর দেখতে না পেয়ে একই বছরের ৩ মে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন জানতে পারেন, তিনি ফাইনাল পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ২৪ নম্বর পেয়েছেন। যা ছিল ওই সময়ের নির্ধারিত পাস নম্বরের চেয়ে ১ নম্বর কম। তবে যশোর সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি মুক্তিযোদ্ধা মহীউদ্দিন সেখানেই হাল ছেড়ে দেননি। তিনি নির্ধারিত ফি প্রদান করে তার উত্তরপত্র পুনরায় নিরীক্ষণের আবেদন জানান।
আবেদন অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় খাতা নিরীক্ষণ করে। তবে ফল প্রকাশ না করে বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। পরে ওই কমিটি খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুতর অসদাচরণ খুঁজে পান। তাই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ অনুসারে শাস্তিস্বরূপ খাতা মূল্যায়নকারী ২ শিক্ষককে যথাক্রমে ৭ ও ১২ বছর খাতা দেখা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ফল প্রকাশিত না হওয়ায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবশেষ আশ্রয়স্থল আদালতের শরণাপন্ন হন মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন। ১৯৮৮ সালে তিনি যশোরের সহকারী জজ আদালতে একটি ঘোষণামূলক মামলা (দেওয়ানি মোকদ্দমা নং- ২৩৩/১৯৮৮) দায়ের করেন। মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীনের অপ্রকাশিত ফল প্রকাশের নির্দেশনা দিয়ে ১৯৯০ সালের ১৯ অক্টোবর ডিক্রি জারি করেন আদালত। ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে যশোরের জেলা জজ আদালতে আপিল দায়ের করে রাবি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা জজ আদালত রাবি কর্তৃপক্ষের আবেদন না মঞ্জুর ঘোষণা করেন।
এরপর যশোরের জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে রাবি কর্তৃপক্ষ ১৯৯৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন (৩৩৭২/১৯৯৩) দায়ের করে। এখানেও ব্যর্থ হয় রাবি কর্তৃপক্ষ। কেননা, ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর বিচারপতি (পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি) এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রাবি কর্তৃপক্ষের দেওয়ানি রিভিশনটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন এবং মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীনকে মামলার খরচ পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করেন। কিন্তু ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আর কোনও আপিল না করায় মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীনের পক্ষে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থেকে যায়।
তবে এরপরও কোনও প্রতিকার না পেয়ে পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিষয়ে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মহিউদ্দিন আহমেদ।









