X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সব আসামি অজ্ঞাত!

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৪

চিত্রনায়িকা রাহিমা আক্তার শিমু ওরফে রাইমা ইসলাম শিমু (৪১) হত্যার ঘটনায় লাশ উদ্ধারের খুব অল্প সময়ে মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। এ সময় এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শিমুর স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম আব্দুল্লাহ ফরহাদের সম্পৃক্ততা ‘পাওয়া গেছে’ বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়। এমনকি এও বলা হয় যে, তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। অথচ এর বেশ কয়েকঘণ্টা পরে মামলা দায়ের হলেও তাতে কাউকে আসামি করা হয়নি। অভিযোগে এ দুজনের নাম আসলেও তালিকাভুক্ত আসামি করা হয়েছে ‘অজ্ঞাতদের’।

শিমুর ভাই হারুন অর রশীদ (৪৭) মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলাটি (মামলা নম্বর ৩৭) দায়ের করেন। পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে আসামি ‘সব অজ্ঞাত’ বলা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ থানায় এই মামলা করার আগেই শিমুর স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধুকে গ্রেফতার করলেও তাদের এজাহার নামীয় আসামি করা হয়নি, তাদের ‘পুলিশ তদন্তে প্রাপ্ত’ আসামি বলা হয়েছে। জানা গেছে, ‘নিহতের পরিবারের অনাগ্রহের’ কারণে তাৎক্ষণিক তাদের আসামি করা হয়নি। আদালতে পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনেও তাদের ‘তদন্তে প্রাপ্ত আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মামলায় হারুন অর রশীদ অভিযোগ করেন, ‘আমার ছোটবোন রাহিমা আক্তার শিমু ওরফে রাইমা ইসলাম শিমু একজন চিত্রনায়িকা। খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল তার স্বামী। তারা একসঙ্গে কলাবাগানের গ্রিনরোডের বাসায় সপরিবারে থাকতেন। ১৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে অভিনেতা জহিরুল ইসলাম ওরফে আদর ফোন করে আমার ছোটবোন ফাতিমাকে জানায়, ‘শিমুকে সকাল থেকে মোবাইল ফোনে পাচ্ছি না’। তখন আমার ছোটবোন শিমুর বড় মেয়ে অজিহা আলীম রিদকে (১৭) ফোন দেয়। তার মায়ের খবর জানতে চায়। রিদ মোবাইল ফোনে ফাতিমাকে জানায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে তার মা বাসায় নেই, কোথায় আছে সেও জানে না। এরপর ফাতিমা তার মোবাইল ফোন থেকে শিমুর স্বামী নোবেলকে ফোন দেয়। তখন নোবেল তাকে জানায়, শিমু কোথায় আছে তা তিনি জানেন না। আমার বোনকে রাতে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখি।’

হারুন অর রশীদ মামলায় আরও অভিযোগ করেন, ‘১৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পাই, কেরানীগঞ্জে এক নারীর লাশ পাওয়া গেছে, লাশটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরিবারসহ মর্গে গিয়ে আমরা আমার বোন শিমুর লাশটি শনাক্ত করি। আমার বোন মিডিয়ায় কাজ করে বলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ছিল।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা বোন নিখোঁজ হওয়ার পরে তার বাসায় গিয়ে নোবেলের সঙ্গে তার বাল্যবন্ধু ফরহাদকে দেখতে পাই। তারা এসময় নিখোঁজ নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছে। মোবাইলেও তারা এলোমেলো কথা বলেছে। তাই আমাদের ধারণা আমার বোনের স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল ফরহাদসহ অজ্ঞাত আরও ব্যক্তিরা শিমুকে ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে খুন করে লাশ গুম করতে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায়।’

১৬ জানুয়ারি সকালে শিমু নিখোঁজ হন। ১৭ জানুয়ারি রাতে তার লাশ শনাক্ত হয়। ওইদিন রাতে তার স্বামী নোবেল ও নোবেলের বন্ধু ফরহাদকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকারও করে বলেও ১৮ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে সংবাদ সম্মেলন করে জানান। হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবিও করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনের পর কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়। তবে মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার তার কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও দাম্পত্য কলহের জেরে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এর ফলে শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় বলেও জানায় পুলিশ।

১৮ জানুয়ারি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চুন্নু মিয়া আদালতে নোবেল ও ফরহাদকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তাদের ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার রহস্য উদঘটন হবে এবং অপর আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’ রিমান্ড আবেদনে তাদের এজাহার নামীয় আসামি বলা হয়নি।

জানাগেছে, নিহত শিমুর পরিবার বিশেষ করে তার বোন ফাতিমা প্রথম থেকেই হত্যার সঙ্গে নোবেলের সম্পৃক্ততা অবিশ্বাস করে আসছিল। ১৮ জানুয়ারি তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আমার বোন জামাইয়ের সঙ্গে কথা না বলে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বোন কখনও বলেনি, তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি না।’ যদিও সেসময় তিনি বলেন, আমরা চাই মামলাটি যেন সঠিক পথে এগোয়, এজন্য আমরা বুঝে-শুনে আসামি করতে চাই, আমরা চাই এর সঠিক বিচার হোক।

/এআরআর/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রীকে ৩ ঘণ্টা জেরা 
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
এনআইডির বয়স সংশোধনে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতাহাতি, তদন্ত কমিটি গঠন
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান ডিএনসিসির মেয়রের
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত