X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ
কিশোর চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিং

প্লাস্টার খোলা হলেও শিশু ইব্রাহিমের যন্ত্রণা কমেনি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৫৬

ডান পায়ের প্লাস্টার খোলা হয়েছে দুই মাস পর। তবু যন্ত্রণা পিছু ছাড়ছে না সাত মাস বয়সী ইব্রাহিম মোহাম্মদ বিন হাসানের। পা নাড়াতে গেলেই করছে কান্নাকাটি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরও সময় লাগবে। বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা জানাতে গিয়ে ফের অশ্রুসিক্ত হলেন শিশু ইব্রাহিমের বাবা ব্যাংকার ফখরুল ইসলাম।

২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর বেইলি রোডে দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশায় থাকা ফখরুল ইসলাম ও তার শিশুসন্তান ইব্রাহিম রাস্তায় পড়ে যায়। ফখরুলের ডান হাত ও শিশুটির ডান পা ভেঙে যায়। এরপর থেকে যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা বহন করে চলতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

মূলত শিশুসন্তানের কষ্ট দেখে দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ফখরুল ও তার স্ত্রী। ছেলের জন্য দোয়া করবেন জানিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, দুই মাসেরও বেশি সময় পায়ে প্লাস্টার করা ছিল। প্লাস্টার খোলার পর এখন কান্নাকাটি করছে। আমিও ঢাকার বাইরে থাকছি। বাসায় দেখাশোনার জন্য তার মা রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন সেরে উঠতে আরও সময় লাগবে।

একমাস পর আবার এক্সরে করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। পরে তাদের পরামর্শে চলবে যত্নআত্তি। সন্তানের কথা জানাতে গিয়ে ফখরুল বলেন, চাকরি করতে হয় যেহেতু, জীবিকার তাগিদে কর্মস্থল নরসিংদীর মাধবদীর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে যোগদান করেছি চলতি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ডান হাত দিয়ে কোনও কাজ করতে পারছি না। কম্পিউটার চালাতে হচ্ছে বাম হাতে। নরসিংদীতেই থাকতে হচ্ছে। বন্ধের দিন ঢাকায় আসি। এতে খরচও বেড়েছে। শরীরের অবস্থা ভালো নয়। হাতের ব্যথায় এখনও রাতে ঘুম হয় না ঠিকমতো। একটা আঙুল তো সরেই গেছে। ডান হাতে কলমটাও ধরতে কষ্ট হয়। তবে আমার প্রতিষ্ঠান আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছে।

১৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে বাবার কোলে ঘুরতে বেরিয়েছিল ইব্রাহিম। হঠাৎ পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে এক কিশোরের চালিয়ে আসা প্রাইভেট কার সজোরে ধাক্কা দেয় রিকশাটিকে। ছিটকে পড়েন ফখরুল ও তার কোলে থাকা ইব্রাহিম। রিকশাচালক আনোয়ার ইসলামও গুরুতর আহত হন এতে।

এ ঘটনার পর ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এখন মামলাটি দেখভাল করছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দু’বার আসামিপক্ষ নিম্ন আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু বিচারক সেই স্কুলপড়ুয়া ছেলের জামিন দেননি। জানতে পেরেছি, উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ছেলেটির বাবা আবার উচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী। গাড়িটি ফিরিয়ে নিতেও আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিচারক আবেদন নাকচ করে দেন। ছেলেটি এখন গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়ার জন্য প্রায় শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।’

রমনা থানায় দায়ের করা মামলার সূত্রে ১৫ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

/এফএ/এলকে/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
আইপিএলপাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত