আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকায় ‘কর্ণফুলী শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সমিতি পরিচালনা করতেন শহিদুল ইসলাম। টাকার লোভে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে হত্যা করেছেন তারই ব্যবসায়িক অংশীদার আলমগীর। আলমগীর এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এ তথ্য জানান।
এ হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে গত ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল, শেরপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাত জনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানতে পারেন র্যাব কর্মকর্তারা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— মো. আলমগীর (২৯), ববিতা খাতুন ওরফে আকলিমা (২৪), সাগর হোসেন বাবু ওরফে কালা বাবু (২২), মো. মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ ২০), মো. আফজাল হোসেন (২৬), মো. রফিকুল ইসলাম খান ওরফে সাগর (৩৯), মো. রাকিব শেখ (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় রক্তমাখা জ্যাকেট নিহত ব্যক্তির মোবাইল ফোন।
র্যাব -১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আলমগীর ভিকটিম শহিদুল ইসলামের সমিতির পার্টনার ছিল। শহিদুলকে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে আলমগীর। এ জন্য প্রেমের অভিনয় করতে অর্থের বিনিময়ে তার পূর্ব পরিচিত ববিতা নামে এক তরুণীকে সে রাজী করায়। মেয়েটিকে কৌশলে শহিদুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ববিতা ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে আশুলিয়ার বাইপাইলে ডেকে আনে। সেখানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা শহিদুলের হাত-পা ও চোখ বেঁধে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
এক পর্যায়ে আসামিরা ভিকটিম শহিদুলকে দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সমিতির পার্টনার দিদারুল ইসলামের কাছ থেকে একলাখ টাকা বিকাশ করে নিয়ে আসার জন্য বলে। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় আসামিরা আবারও তাকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করে। পরে শহিদুলকে আশুলিয়া নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি অটোরিকশায় রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। ১০ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শহিদুল। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আবুল মনসুর (৫০) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।









