X
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২
১৫ আষাঢ় ১৪২৯

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু: ঈদে রাখুন বাড়তি খেয়াল

আপডেট : ০১ মে ২০২২, ১৫:২০

পানিতে ডুবে দেশে প্রতিবছর বহু শিশু মারা যায়। এসব মৃত্যু রয়ে যায় দৃষ্টির আড়ালে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার বড় একটি অংশই গ্রামাঞ্চলে। ইনজুরি সার্ভে নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, ঈদের মৌসুমে ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়া শিশুদের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। কেবল মা-বাবাকে দোষ না দিয়ে শিশু যেন চোখের আড়াল না হয় সেদিকে সবাইকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে করণীয় কী হবে এসব বিষয়ে তৃণমূলে প্রশিক্ষণের কথাও বলছেন তারা।

ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য মতে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুনে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১২। ২০২০ সালে পানিতে ডুবে মোট শিশুমৃত্যু ৫৭৬। ২০১৯ সালে ছিল ৩৩৬ জন।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এর বাইরে একটি বড় অংশ রয়ে গেছে যেগুলো সংবাদপত্রে আসে না।

২০২১ সালের গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর নামে একটি এনজিওর সমীক্ষা বলছে, দেশে এক বছরে ১ হাজার ৩৩২ শিশু পানিতে পড়ে মারা গেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ এর ২৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

সরকারের ২০১৬ সালের সর্বশেষ জরিপ বলছে, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা ও নজরদারির অভাব রয়েছে। প্রায় ৬০ ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। কারণ হিসেবে উঠে আসে, এ সময়ের মধ্যে শহর ও গ্রামে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিশেষ করে বাবা-মা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন।

এই জরিপেই ধারণা করা হয়, কেবল এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের যদি প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির ভেতরে রাখা যায় তাহলে ৮০ ভাগ শিশুমৃত্যু বন্ধ করা যায়।

পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে একটি জাতীয় জোট তৈরি করা হয়েছে। এর জেন্ডার উপদেষ্টা সেলিনা আহমেদ এনা বলেন, ‘ঈদে যারা বাড়ি যাচ্ছেন সেসব অভিভাবক যেন সতর্ক থাকেন। আমরা দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু খুব বেশি সমাধানের দিকে যেতে পারিনি। কোনও শিশু পানিতে পড়লে উদ্ধারের পর কী করতে হবে সেটিও ঠিকমতো প্রশিক্ষণ না দেওয়ায় অনেকে উদ্ধারের পরও মৃত্যুর মুখে পড়ে। ফলে পানিতে যাতে না ডুবে সেজন্য এবং ডুবন্ত কাউকে উদ্ধারের পর করণীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন (এনএডিপি)-এর আহ্বায়ক সদরুল হাসান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে বিজ্ঞানভিত্তিক পথ অবলম্বন করলে মৃত্যুর শঙ্কা ৯০ ভাগ কমবে। কিন্তু এর জন্য যা করণীয় তা আমরা সরকারি বা বেসরকারিভাবে করতে পারিনি।’

সম্প্রতি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আড়াই বছরের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৬ জেলার কয়েক হাজার দিবাযত্ন কেন্দ্র থাকবে।

গতবছর ২৯ এপ্রিল এই বিষয়ে জাতিসংঘ একটা রেজ্যুলেশন নেয়। একবছরের মধ্যেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় দেশ যারা এর ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে চলেছে।

সদরুল হাসান আরও বলেন, পানিতে ডুবলে ফুসফুসে পানি ঢুকে যাওয়ার ফলে শিশুর অক্সিজেন স্বল্পতা ও পরে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব হয়। এতেও মৃত্যুও হতে পারে।

সব এলাকায় যদি প্রতি ১০ জনে একজনকে প্রশিক্ষিত করা যায়, যারা কিনা উদ্ধার হওয়াদের নিয়ে কাজ করবেন, তবে মৃত্যু অনেকাংশে কমে আসবে।

ডুবন্ত কাউকে উদ্ধারের পরে যেভাবে আঞ্চলিক চিকিৎসা দেওয়া হয় সেটিও বন্ধ করতে হবে।

/এমআর/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
এনটিআরসিএ’র ১৪তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করে রায় ঘোষণা 
কুড়িগ্রামে আবারও বন্যার শঙ্কা 
কুড়িগ্রামে আবারও বন্যার শঙ্কা 
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
এ বিভাগের সর্বশেষ
ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস, অফিস-আদালতে ঈদের আমেজ
ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস, অফিস-আদালতে ঈদের আমেজ
মন্দা আবহাওয়াতেও চিড়িয়াখানায় ৩৫ হাজার
মন্দা আবহাওয়াতেও চিড়িয়াখানায় ৩৫ হাজার
‘যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রসারমান ধর্ম ইসলাম’
‘যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রসারমান ধর্ম ইসলাম’
ঈদের দিন পার্কে চরকি থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ঈদের দিন পার্কে চরকি থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ঈদেও চলছে বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসাসেবা
ঈদেও চলছে বিএসএমএমইউ'র চিকিৎসাসেবা