X
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২
১৩ আষাঢ় ১৪২৯

দুর্ভোগের আরেক নাম বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১০:০৫

আমেরিকা থেকে সেবা রানি দাস বাংলাদেশে আসেন গত ৮ জুন। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেল্টে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ পাননি। শুধু সেবা রানি দাস নন, তার সঙ্গে আসা ৫ জনের ১৩ লাগেজ উধাও। নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ দিয়েছেন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও হারানোর অভিযোগ না নিয়ে, যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে কর্তৃপক্ষ।

লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে জানানো হয়েছে, লাগেজ পাওয়া গেলে তাদের জানানো হবে। কিন্তু ১২ দিন পার হয়ে গেলেও যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরে ফোন দিলে কেউ কল রিসিভ করেন না। আর লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড থেকে কেউ লাগেজের তথ্য জানাতেও ফোন করেননি রানি দাসকে। এ রকম দিনের পর দিন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমলেও দেখার কেউ নেই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করছে রাষ্ট্রয়াত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় বিমানবন্দরগুলোর হারানো সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ বিভাগ পরিচালনা করছে বিমান। বিমান ছাড়াও সব এয়ারলাইনের যাত্রীদের লাগেজ হারানো, নষ্ট হওয়াসহ যাবতীয় অভিযোগ জানানোরও নির্ধারিত স্থান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড।  তবে এ কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকা ছাড়াও অব্যবস্থাপনার কারণে বছরের পর বছর ভুগছেন যাত্রীরা। বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে চার্জ  নিলেও সময় মতো আশানুরূপ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিচ্ছে না বিমান।

গত এক মাসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে নেই পর্যাপ্ত জনবল। সেখানে কর্মরতদের থাকতে হচ্ছে বাড়তি কাজের চাপে। সীমিত জনবল থাকায় যাত্রীদের অভিযোগ নেওয়া, এয়ারলাইনকে জানানো, যাত্রীদের ফোন রিসিভ করা, রিয়ারে ব্যাগ ডেলিভারি করাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। চাপ কমাতে যাত্রীদের অভিযোগ নিতে অনীহা সেখানকার কর্মরত বিমানের কর্মীদের। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ব্যবস্থাপনায় বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেই মনিটরিং। অভিযোগের প্রতিকারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নেই বললেই চলে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনও যাত্রী লাগেজ না পেয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে গেলে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হারানোর অভিযোগ না নিয়ে যাত্রীকে সাদা কাগজে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ফোন নম্বর দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। সেই নম্বরে ফোন দিলে কোনও প্রতিকার মিলে না। তথ্য না পেয়ে কয়েক দিন পরে বিমানবন্দরে ছুটে আসেন ভুক্তভোগীরা। এতে আরেক বিপত্তি, বিমানবন্দরে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে পৌঁছানোর জন্য করতে হয় রীতিমতো যুদ্ধ। কারণ এটি বিমানবন্দরের এমন স্থানে যেখানে সবার প্রবেশের সুযোগ নেই।

৪ জুন এয়ার অ্যারবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মিজান হক। নিজের একটি লাগেজ না পেয়ে খোঁজ নিতে যান লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে। সেখান থেকে সাদা কাগজে একটি ফোন নম্বর দিয়ে মিজানকে চলে যেতে বলা হয়। বাড়িতে আসার ৪-৫ দিন পরেও কোনও তথ্য না পেয়ে মিজান সেই নম্বরে ফোন করলেও কেউ রিসিভ করেননি। মিজান ১৪ জুন ঢাকায় আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ জানাতে। তাকে জানানো হয়, টঙ্গিতে তার বাড়ির কাছের এসএ পরিহনের কুরিয়ারের লাগেজ পাঠানো হয়েছে।

মিজান হক বলেন, ‘দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি কেউ আমাকে আপডেট তথ্য দেয়নি। ফোন করেছি কেউ ধরেনি। বাধ্য হয়ে আমি বিমানবন্দরে গেলাম। তারা জানালো কুরিয়ারে গেছে। কুরিয়ারে গিয়ে দেখি আমার লাগেজের জিনিসপত্র ঠিক নেই। চকলেট, দুধ, টর্চলাইট ছিল, এসব সামান্য জিনিসের লোভ সামলাতে পারলো না। কুরিয়ারে লোকজন বলছে, বাংলাদেশ মানে বুঝেনই তো, যা পাইছেন নিয়ে যান।’

এদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিমানকে টাকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত  সেবা না পেয়ে ক্ষুব্দ বিদেশি এয়ারলাইনগুলো। নিজের ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখতে নিজস্ব জনবল দিয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সাপোর্ট দিচ্ছে সিঙ্গাপুরসহ বিদেশি বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এয়ারলাইনের কর্মকর্তা বলেন, ‘নানা সমস্যার কারণে যাত্রীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে লাগেজ নাও আসতে পারে। লাগেজ না পেলে যাত্রীরা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা আমাদের এয়ারলাইনের ইমেজের জন্য বড় ক্ষতি। কোনও যাত্রীর লাগেজ না পাওয়া গেলে, আমাদের কর্মীরা যাত্রীর হয়ে লস্ট ক্লেইম করাসহ যা যা প্রয়োজন তা করেন। বিমানকে আমরা সার্ভিসের জন্য টাকা দেই, কিন্তু সেই সার্ভিস পাই না।’

এ বিষয়ে বিমানের বক্তব্য জানতে ১২ জুন যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন পাঠাতে বলে এয়ারলাইনটির জনসংযোগ বিভাগ। প্রশ্ন পাঠানোর সপ্তাহ পার হলেও বিমানের পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড নিয়ে আমরা কাজ করছি। কীভাবে অভিযোগ কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়গুলোই দেখা হচ্ছে। এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কথা হচ্ছে, যেন আরও দ্রুত সেবা দেওয়া যায়।’

শুধু ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেও একই চিত্র।

এ নিয়ে চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তারা এখানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। কোনও যাত্রী যদি লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে আসে, তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এলকে/আইএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকরি
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকরি
বিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে ছাত্রের লাশ: ২ শিক্ষক আটক
বিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে ছাত্রের লাশ: ২ শিক্ষক আটক
কেকের মৃত্যুর পর নজরুল মঞ্চে গাইলেন সনু
কেকের মৃত্যুর পর নজরুল মঞ্চে গাইলেন সনু
ঈদের পোশাক নিয়ে এসেছে ‘সারা’
ঈদের পোশাক নিয়ে এসেছে ‘সারা’
এ বিভাগের সর্বশেষ
রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো বিমানের ড্যাশ-৮
রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো বিমানের ড্যাশ-৮
পাসপোর্টধারীকে যাচাই করবে ই-গেট, ইমিগ্রেশন আগের মতোই
পাসপোর্টধারীকে যাচাই করবে ই-গেট, ইমিগ্রেশন আগের মতোই
অবশেষে শাহজালালে সচল হলো ই-গেট
অবশেষে শাহজালালে সচল হলো ই-গেট
৪১০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়লো প্রথম হজ ফ্লাইট
৪১০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়লো প্রথম হজ ফ্লাইট
ডলার পাচারকালে বিমানবন্দরে তুর্কি নাগরিকসহ দুইজন আটক
ডলার পাচারকালে বিমানবন্দরে তুর্কি নাগরিকসহ দুইজন আটক