সদ্য প্রকাশিত ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিরকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত এলাকাভিত্তিক ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর )এর সঠিক প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আইপিডি।
বুধবার (২৪ আগস্ট) আইটিডির নির্বাহী পরিচালক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৬ সালে প্রণীত হওয়ার সময় এলাকাভিত্তিক ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছিল, যা এবারের ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক ‘এফএআর’ এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে জনঘনত্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ভবন ও কমিউনিটিতে আলো-বাতাসের প্রবেশগম্যতার পাশাপাশি নগরের উষ্ণায়ন রোধে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে প্রণীত আগের ড্যাপের নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৫ সালে পার হওয়ার কারণে ঢাকা শহরের পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিছুটা বিলম্বে হলেও ঢাকা ও পাশের অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত এই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা সঠিকভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা হলে, ঢাকার নগরায়ন এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সঠিক গতিপথে চালিত হতে পারে।
আইপিডি মনে করে, যেকোনও পরিকল্পনা দলিলে অনুসৃত পরিকল্পনা কৌশল, পন্থা ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুরূপভাবে পরিকল্পনার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নির্ভর করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক সদিচ্ছা, যথাযথ প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন ও জনস্বার্থ-জনকল্যাণ রক্ষায় পরিকল্পনা ও নীতি-নির্দেশনার নির্মোহ ও যথাযথ বাস্তবায়ন এর ওপর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় আধুনিক নগর–পরিকল্পনার বেশ কিছু কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, মেট্রো স্টেশনভিত্তিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), জনঘনত্ব জোনিং, ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইট (টিডিআর), ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আঞ্চলিক পার্ক, জলকেন্দ্রিক পার্ক, ইকোপার্ক তৈরি, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো তৈরি ও বাইসাইকেল লেনকে উৎসাহিত করা এবং অযান্ত্রিক পরিবহনকে সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা— এসব বিষয় ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর ও বলা হয়, বাস্তবিক অর্থে ড্যাপে প্রস্তাবিত সব পরিকল্পনা কৌশলের সফলতা নির্ভর করবে তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য ঢাকা মহানগর এলাকায় কার্যরত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতি সংস্থাসমূহকে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত প্রণয়ন করবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।









