‘জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি’ নামে একটি ভুয়া রেজিস্ট্রেশন-বিহীন আর্থিক কোম্পানির আড়ালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকচক্র। সোমবার এই চক্রের পাঁচ রিং-লিডারসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে র্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন শিমুলতলা সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ‘জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে’ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এরশাদ শেখ (৩১), নাঈম শেখ (২৬), শহিদুল্লাহ (২৩), ইলিয়াস আহম্মেদ (২৫), জামাল উদ্দিন (৫২), জিয়াউর রহমান (২৫), মহসিন কবির (৪২), কামরুল শেখ (১৯), আজিজুল ইসলাম (২০), হুমায়ূন শেখ (২১), রাহাত অনিক (১৯), মাওলানা মাইনুদ্দিন (২৩),বারহাম মিয়া (২০), হিজবুল্লাহ (১৯) ও চাঁন মিয়া (১৯)।
এসময় তাদের কাছ থেকে একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, ২টি প্রিন্টার, ১৫টি রেজিস্টার, ১৪টি মোবাইল, ১৪টি সিম কার্ড, ৯টি সিল, ৩০টি ভিজিটিং কার্ড, ৪টি আইডি কার্ড, ২৫০টি বায়োডাটা ফরম, একটি ক্যাশ ভাউচার ও ৮টি আবেদন ফরম জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রতারণার কথা স্বীকার করে বেকার, অসহায় ও নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রতারণার কৌশল
প্রতারক চক্রটি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। বিজ্ঞাপন দেখে শতশত যুবক-যুবতি ও ছাত্র-ছাত্রী চাকরির জন্য গেলে প্রথমে চাকরি তাদের কাছ থেকে রেজিস্টেশন ফি হিসেবে ৫২০ টাকা করে নিতো। পরে চাকরির নিশ্চয়তা ও মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আরও ১০-২০ হাজার টাকা নিয়ে ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে পলিসি খুলতে বাধ্য করতো।
ভুয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানির ইউনিট ম্যানেজার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রভৃতি পদে ১৮ হাজার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুরেন্স করাতে প্রলুব্ধ করতো। চাকরি পাওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে আসা যাওয়া করে বেতন না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি, মারধর এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বের করে দিতো।
এই প্রতারকচক্রের সদস্যরা আগেও প্রতারণার অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলাও রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা।









