বিভাগীয় মামলা ছাড়াও দেওয়ানি ও ফৌজদারিসহ খাদ্য অধিদফতরের পক্ষের ও বিপক্ষের এক হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে দেশের বিভিন্ন আদালতে। গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় দেড় হাজার মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৫২টি। এরমধ্যে সরকারের বিপক্ষে আদেশ হয়েছে ৪০টি মামলার। নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে ৭১টি মামলা। ১৪৬টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। একইসঙ্গে বাড়ছে মামলার সংখ্যা। খাদ্য অধিদফতরের তদন্ত ও মামলা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত আছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খাদ্য অধিদফতরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে ৯৬টি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে এসব মামলার মধ্যে ৫৪টি বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এরমধ্যে ২৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২৮ জনকে লঘুদণ্ড ও তিন জনকে দেওয়া হয় গুরুদণ্ড। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য বর্তমানে মাঠপর্যায় থেকে দশম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে লঘুদণ্ডের আওতায় বিভাগীয় মামলা এনে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
খাদ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মেট্রো ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, শ্রম আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, আপিল ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতে খাদ্য অধিদফতরের মামলা চলমান আছে এক হাজার ৭২টি। এরমধ্যে দেওয়ানি মামলা ৬১৬টি, ফৌজদারি মামলা ৫১টি, অবমাননা মামলা ৫টি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ২০টি, জুডিসিয়াল ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২টি মামলা চলমান আছে। এক হাজার ৪৯৫টি মামলার মধ্যে ৮৯টি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ১৪৬টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ৭১টি স্থগিত রয়েছে। মামলার রায় বাস্তবায়ন হয়েছে ছয়টির। আদালতে সরকারের বিপক্ষে আদেশ হয়েছে ৪০টি মামলায়। পক্ষে আদেশ হয়েছে ৭১টি মামলায়।
কিছুদিন আগে নতুন করে তাগাদা দিয়ে চলমান মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে খাদ্য অধিদফতর থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে— চালকল মালিকদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন আদালতে যেসব মামলা বিচারাধীন আছে, সেগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বছরের পর বছর মামলার কার্যক্রম চলমান থাকলে সরকারি পাওনা টাকা আদায় কঠিন হয়ে পড়বে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে মামলার তদারক কর্মকর্তাকে চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে এসব মামলা পরিচালনার সঙ্গে যেসব সরকারি আইনজীবী রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
খাদ্য অধিদফতরের আইন উপদেষ্টার দায়িত্বে নিয়োজিত উপসচিব হারুন-অর-রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতসহ সারাদেশের বিভিন্ন জজকোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এক হাজারের বেশি। এরমধ্যে খাদ্য অধিদফতরের জমি-জমা নিয়ে কিছু মামলা আছে। জেলা-উপজেলায় খাদ্য অধিদফতরের যে ভবনগুলো আছে, সেগুলোর কিছু কিছু মামলা আছে। অধিদফতরের আওতায় যে এলএসডি (লোকাল স্টোরেজ ডিপো)গুলো আছে, সেখানে খাদ্যের বস্তাগুলো ওঠানো-নামানো নিয়ে যে শ্রমিকরা কাজ করেন এবং শ্রমিকদের তদারকির জন্য যে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়, সেসব নিয়ে বেশকিছু মামলা আছে। এরমধ্যে কিছু মামলা আছে শ্রম হ্যান্ডেলিং (তদারকি) নিয়ে। জজ কোর্ট ও হাইকোর্টেও মামলা বিচারাধীন আছে অনেকগুলো। এসব মামলার বেশিরভাগই হয় সাধারণত টেন্ডার নিয়ে। যারা আগে কাজ করেছে, তারা আবারও কাজ পেতে চায়। টেন্ডার নীতিমালা পরিবর্তনের কারণেও মামলা করেন অনেকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফৌজদারি মামলাও বিচারাধীন আছে। এগুলো হয় সাধারণত খাদ্য আত্মসাতের ঘটনায়। গোডাউনগুলোতে যদি খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় বা আত্মসাৎ হয়, তখন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। কারণ, এটা তো ক্রিমিনাল অফেন্স। সরাসরি অপরাধ। তাছাড়া বিভাগীয় মামলাতো আছেই। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগসহ সারাদেশের বিভিন্ন আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। যেগুলো নিষ্পত্তিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’









