বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নয়াপল্টন এলাকা থেকে জব্দ করা হয় ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেলের অর্ধেক ছাড়িয়ে নিয়েও বাকি অর্ধেকের মতো এখনও থানায় পড়ে আছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধায় পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জব্দ করা অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন গাড়ির মালিকরা। বাকিগুলো থানায় রয়েছে। যারা গাড়ির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারছেন তাদের গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ওসি বলেন, জব্দ করা গাড়িগুলো যার নামে তাকেই উপস্থিত হয়ে গাড়ি নিতে হবে। সঙ্গে এনআইডি কার্ডসহ, গাড়ির সব কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে হবে। যার নামে গাড়ি সে ছাড়া অন্য কেউ এলে হবে না।’
এর আগে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) এনামুল হক মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দিন রাতে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
মামলার আলামত হিসেবে জব্দ না দেখিয়ে সংঘর্ষের স্থান থেকে কোনও জিনিসপত্র পুলিশ নিতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিয়ে যেতে পারে। কারণ মোটরসাইকেল তাদেরই (বিএনপির নেতাকর্মীদের)। আমরা যাচাই-বাচাই করছি।’
এদিকে মটরসাইকেলগুলো থানায় রাখার পর পুলিশ বলেছিল, ফেলে যাওয়া এসব মোটরসাইকেলের অধিকাংশই বিএনপি নেতাকর্মীদের। আর কিছু মোটরসাইকেল স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মার্কেটে আসা লোকজনসহ পথচারীদের। মোটরসাইকেলগুলোর মালিকদের খুঁজছে পুলিশ। খুঁজে পেলে যথার্থ প্রমাণ মিললে তাদের গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল ফিরে পাওয়ার জন্য পল্টন থানায় আসেন। কিন্তু তাদের এ বিষয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তবে গাড়ির মালিককে কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হয়ে মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে হবে এমটাই জানাই থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টন এলাকায় সংঘর্ষের পরে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই দিন রাত ৮টার দিকে নাইটেঙ্গেল মোড় (বিজয়নগর মোড়) থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে পড়ে থাকা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ভ্যানে করে উঠিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সেদিন ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেল রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পল্টন থানায় রাখা হয়। যেগুলো মামলার আলামত হিসেবে দেখানও হয়নি।









