অবিলম্বে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্টল খুলে দেওয়া এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন লেখক ও প্রকাশকরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব-দ্বীপ প্রকাশনী বন্ধের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তারা এই দাবি জানান।
সমাবেশে মৌলবাদের চাপের মুখে মুক্তচিন্তার ওপর রাষ্ট্রীয় আঘাত বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশক রবিন আহসান, লেখক-প্রকাশক রাখাল রাহা, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনান্দ জয়ন্ত, ব্লগার বাকি বিল্লাহ, উদীচীর সহ-সম্পাদক জমসেদ আনোয়ার প্রমুখ।
সমাবেশে প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, ‘বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান মনিক ওই বইয়ে কী ধরনের উস্কানি দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করেননি। কেবলমাত্র ফেসবুকে বাঁশেরকেল্লার অপপ্রচারের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্টল বন্ধ করার দায় পুলিশের না। বাংলা একাডেমি তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য পুলিশকে নিয়োজিত করেছে। এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য অবিলম্বে শামসুজ্জামান খানকে অপসারণ করতে হবে।’
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার বলেন, ‘যখন বাংলা একাডেমির মতো সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের সতর্ক সংকেত ছাড়াই স্টল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন শামসুজ্জামান খান মিডিয়াকে উস্কানি না দিতে বলে যে বক্তব্য দেন, তা ধাপে টিকে না।’
লেখক ও প্রকাশক রাখাল রাহা বলেন, ‘বাংলা একাডেমি বেগম রোকেয়ার অনেক বই প্রকাশ করেছে। তিনি তার বইয়ের বহু জায়গায় ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন। যেগুলো উস্কানিমূলক। এখন মুক্তমনা লেখকদের লেখা উস্কানিমূলক বলে যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে বেগম রোকেয়ার লেখা প্রকাশের জন্য বাংলা একাডেমিকেও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
সমাবেশে বইমেলায় পুলিশি আগ্রাসন রুখে দাঁড়াও, মুক্তচিন্তার লেখক ও প্রকাশকদের স্বাধীনতা চাই, মানবতার মুক্তি চাই, মুক্তচিন্তার বিকল্প নাইসহ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।
/এনএস/এসএম/








