ই-অরেঞ্জের সোহেল রানার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, কিছুই জানে না পুলিশ

মহিউদ্দিন খান রিফাত
১৭ মে ২০২৩, ২১:০০আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ২১:২৫

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের প্রতারণায় বনানী থানার বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে গুলশান থানার ৫ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা  জারি করা হয়েছে। জানা যায়, এসব মামলা হওয়ার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এদিকে সোহেল রানা পলাতক থাকায় আদালত বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তাকে গ্রেফতার এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনও উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এমনকি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে কোনও তথ্য জানা নেই বলে দাবি গুলশান থানা পুলিশের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ই-অরেঞ্জের সঙ্গে সম্পৃক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা হতে থাকলে, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারত চলে যান। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা অনুপ্রবেশের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত থেকে তাকে আটক করেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের আদালতে তার তিন বছরের জেল হয়। পরে ৫ সেপ্টেম্বর সোহেলকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। একটি মানিলন্ডারিং, দুটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে এবং বাকিগুলো প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে।

মামলায় আসামিরা হলেন—ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, মালিক বীথি আকতার, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ এবং সাবেক সিও নাজমুল রাসেল।

তাদের মধ্যে সোহেল রানা, বীথি আকতার ও কাওসার পলাতক। নাজমুল রাসেল গত ফেব্রুয়ারি মাসে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

আদালত সূত্র বলছে, বেশিরভাগ প্রতারণা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থপাচারের মামলা সিআইডি এখনও তদন্ত করছে।

সোহেল রানার বিরুদ্ধে যেসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা

এরমধ্যে গুলশান থানায় ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রতারণার অভিযোগে করা একটি মামলার চার্জশিটে বলা হয়—শেখ সোহেল রানাসহ অন্যান্য আসামি পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ই-অরেঞ্জ শপ নামে অনলাইন মার্কেটিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে, বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। বিশাল ডিসকাউন্টে পণ্য বিক্রয় ও ডাবল লাভে ভাউচার বিক্রির অফার দিয়ে বাদী ও সাক্ষীদের কাছ থেকে ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৮ টাকা গ্রহণ করেন। কোম্পানির ওয়াদা মোতাবেক ওই টাকার কোনও পণ্য বা মূল টাকা ফেরত আনতে কোম্পানির অফিসে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেন আসামিরা। পরবর্তী সময়ে তিনি পলাতক থাকায় এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

গুলশান থানায় ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর মো. রাসেল নামের একজন বাদীর করা আরেকটি প্রতারণার মামলায় ই-অরেঞ্জের শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ মামলায় ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

একই মাসের ২৫ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ফজলে রাব্বি নামের একজন সোহেল রানার প্রতারণা করার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পলাতক থাকায় এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় এস এম রিফাত হোসেন নামের একজন বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায়ও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায়  ২০২২ সালের ৩ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এছাড়া ২০২১ সালের ২ অক্টোবর গুলশান থানায় মেহেদী আদনান নামের একজন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায়ও তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। পলাতক থাকায় এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তবে এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও গুলশান থানা পুলিশ এ বিষয়ে কিছুই জানে না। আদালত থেকে তারা কোনও কাগজও পায়নি বলে জানায় তারা।

এ সম্পর্কে গুলশান থানার ওসি বি এম ফরমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে তার (সোহেল রানার) ওয়ারেন্টের কোনও কাগজপত্র আসেনি।  তিনি কোথায় আছেন, সে ব্যাপারেও আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।’

এছাড়াও জানা যায়, সোহেল রানাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। সোহেল তখন কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারত। গত বছরের ডিসেম্বরে জামিন পেলে তার বিষয়ে তথ্য চেয়ে ফের চিঠি দেয় পুলিশ, কিন্তু ভারত থেকে সেই চিঠির এখনও কোনও উত্তর আসেনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মনজুর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সোহেল রানার ব্যাপারে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে মনজুর আহমেদ বলেছেন, ‘ভারত আমাদের এখনও কিছু জানায়নি। সোহেল রানা কোথায় আছে, তার কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

 

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম