ভুল অধিদফতরের, ডিজি বলছেন শতভাগ ফেরত আসবে

উদিসা ইসলাম
১২ জুলাই ২০২৩, ২২:০০আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩, ২২:০০

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি)’ আওতায় শ্রমিকদের মজুরির মাত্রাতিরিক্ত অর্থ বিতরণকে ঘিরে চলছে তোলপাড়। প্রকৃত অর্থের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি টাকা বিতরণের ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে কমিটি করেছে অধিদফতর। কীভাবে এই বিপুল অর্থ ফেরত আসবে প্রশ্নে মহাপরিচালক বলছেন, এরইমধ্যে ৮৫ ভাগ অর্থ উদ্ধার করা গেছে। শতভাগ ফেরত পেতে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানরা কাজ করছেন।

চলতি বছরের গত ২৫ জুন সরকারের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি)’ দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলার মোট ৯ হাজার ৮৪৬ জন উপকারভোগীর শ্রম মজুরি গভর্নমেন্ট টু পারসন (জিটুপি) পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপকারভোগীদের কাছে ৮ কোটির কিছু বেশি টাকা পাঠানোর কথা থাকলেও অধিদফতরের ভুলে ৮২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মজুরিভোগীরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদের’ মাধ্যমে ৭ দিন থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত কাজের মজুরি হিসেবে এই অর্থ পেয়েছেন।

ভুল হয়েছে অধিদফতরের

অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ওই উপজেলাগুলো থেকে আসা চিঠি, সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য অর্থের যে তালিকা অধিদফতরে তৈরি হয়েছিল এবং তৈরি করার সময়ে টাকার পরিমাণের পরে দশমিক শূন্য শূন্য ‘ভুলক্রমে’ উঠিয়ে দেওয়ায়— তা কীভাবে ১০ গুণ বেশি হয়ে যায়, সেই কাগজ বাংলা ট্রিবিউনের হাতে রয়েছে। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি দফতরে যেসব নথি পাঠানো হয়েছে, তা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিফতরের ডাটা এন্ট্রির সময়েই এই ভুল হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভুল হওয়ার পরে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেন— ডাটা এন্ট্রির সময় দশমিক সংক্রান্ত জটিলতায় এ বড় ভুলটি হয়েছে। তালিকায় থাকা শ্রমিকদের একটি বড় অংশের ৭ দিনের মজুরি হিসাবে ২ হাজার ৮শ টাকা পাওয়ার কথা। সঙ্গে সরকারের দিক থেকে ক্যাশআউট চার্জ হিসাবে আরও ১৯ দশমিক ৬ টাকা যোগ করা হয়। ফলে তাদের মোট প্রাপ্য দাঁড়ায় ২ হাজার ৮শ ১৯ দশমিক ৬ টাকা। উপজেলা পর্যায় থেকেও এ অঙ্কই অধিদফতরে পাঠানো হয়। ২৮১৯.৬ এর দশমিক উঠে গেলে সেটা ২৮ হাজার ১৯৬ টাকা হয়ে যায়। এই পরিমাণ টাকাই মোবাইলে পাঠানো হয় শ্রমিকদের। আবার যে শ্রমিকদের টাকার অঙ্কে কোনও দশমিক আগে থেকেই ছিল না, তাদের কাছে সঠিক পরিমাণের টাকাই গিয়েছে। আবার কিছু টাকার পরিমাণ এতই বেশি (তিন লাখ টাকার বেশি) যে, সেই টাকা মোবাইলে না ঢোকার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত গেছে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে। এ রকম ভুল এর আগেও একাধিকবার অনেক জায়গায় হয়েছে। বিশ্বজুড়েও এ রকম ভুলের নজির আছে। অটো-ডিভাইসে টাকার অঙ্কের পরের ডেসিমল পয়েন্ট (দশমিক) ভুলে উঠে যাওয়ায় এই বিভ্রান্তি ঘটেছে।’

মোবাইল ব্যাংকিং কোন পর্যায়ে যুক্ত হয়?

ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বলা হচ্ছিল যে, ‘নগদ’ অতিরিক্ত টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। মোবাইল অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়াটায় ‘নগদ’ কোন অংশের কাজটি কীভাবে করে প্রশ্নে নগদ লিমিটেডের হেড অব পাবলিক কমিউনিকেশন্স জাহিদুল ইসলাম সজল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মোবাইলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘নগদ’ বা কোনও এমএফএস-এর সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সব এমএফএস অপারেটরের ক্ষেত্রে এটি একইভাবে প্রযোজ্য। ফলে ‘নগদ’ টাকা বিতরণ করেছে বললে সেটি সঠিকভাবে বলা হয় না।’ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মূলত যে সংস্থা অর্থ বিতরণ করবে তারাই তথ্য সংগ্রহ করে, সমন্বয় করাসহ অনুমোদন গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণের আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অনুমোদনের পর বাজেট বরাদ্দ ছাড়করণ বা ইলেক্ট্রনিক মানি জেনারেট করা সবই হয় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। স্বচ্ছতার জন্যে সরকারের পক্ষ থেকেই এটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকার ইলেক্ট্রনিক রূপ দেয়। এরপরে নগদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেটি গ্রাহকদের মোবাইলে পৌঁছে যায়। এসব প্রক্রিয়ার কোথাও সরাসরি নগদের ভূমিকা রাখার কোনও জায়গা নেই।’

কীভাবে ফেরত আসবে টাকা?

প্রায় ১০ গুণ টাকা বেশি পেয়ে অনেক সুবিধাভোগী শুরুতে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশাল অঙ্কের টাকা দেখে প্রথমে তারা বুঝতে না পেরে কেউ কেউ দ্রুত সর্বনিম্ন যে টাকা ক্যাশআউট করা সম্ভব, তা করে নেন। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ফেরত আসবে কী উপায়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার ৮৫ শতাংশই মাঠ পর্যায়ে তোলা হয়ে গেছে। শতভাগ টাকা ফেরত আসবে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, স্থানীয় চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদের কাছে বেশি টাকা গেছে, তাদের সবাই ক্যাশআউট করতে পেরেছেন তাও নয়। আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্ট লেনদেন স্থাগিত করা হয়। কেউ কেউ ২৫ হাজার পর্যন্ত টাকা তুলে নিতে পেরেছেন। সেই পরিমাণ বেশি নয়।’

তিনি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, প্রথমে ‘সাত দিন সময় নিলেও তদন্তে আরও কিছু দিন সময় লাগবে বলে তারা জানিয়েছেন। আগামীতে যেন এ রকম কিছু না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্যও বলা হয়েছে।’

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের