X
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
৩ বৈশাখ ১৪৩১

নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র সম্ভব নয়: স্পিকার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ আগস্ট ২০২৩, ২২:৫৮আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩, ২২:৫৮

নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র সম্ভব নয় মন্তব্য করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন ও সকল স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্বে রাজনৈতিক দলগুলোকেই বড় ভূমিকা নিতে হবে। দলের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া নারী প্রার্থীদের সরাসরি নির্বাচনে আসার পথ সহজ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ আসনে বেশি করে নারীদের মনোনয়ন না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি হবে না। এ জন্য তিনি দলগুলোর একটি আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

বুধবার (২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউএসএআইডি-এর অর্থায়নে স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ -এসপিএল প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, ‘নারীর জয় সবার জয়’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচনে সাধারণ আসনের প্রার্থী হিসাবে নারীদের অংশগ্রহণ এবং মনোনয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে অধিক সংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে উদ্ধুদ্ধ করতে তাদের জন্য জনতহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে ‘নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় (নারী প্রার্থী) আইন, ২০২৩’ শিরোনামে বেসরকারি বিলের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. আবদুল আলীম।

নির্বাচন বা রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নারীকে কেউ পরিবেশ তৈরি করে দেবে না উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, কেউ পরিবেশ তৈরি করে দেবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। পরিবেশ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। নারীদের আলোচনায় মনে হয় তারা যেন কারো ওপর নির্ভর করতে চেষ্টা করছেন। কখনও মিডিয়া, কখনও পুরুষ সদস্য বা কখনও রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আগে নিজের পায়ের ওপর শক্ত করে দাঁড়াতে হবে। তারপর অন্যের সহযোগিতা প্রত্যাশা করতে হবে।

নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য নারী-পুরুষ বিবেচনা না করে মন্তব্য করে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দলকে ক্ষমতায় যেতে হলে আসন জয় করে আনতে হবে। কাজেই রাজনৈতিক দল ডান-বাম কিছুই দেখবে না। দেখবে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হয়ে আসতে পারবে। এই অবস্থান থেকে কেউ সরবে না। তবে, নারীদেরও সুযোগ আছে সেই প্রার্থী হওয়ার। এ জন্য আত্মবিশ্বাসটা তৈরি করতে হবে। নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

কেউ নিজের সিট ছাড়তে চাইবে না জানিয়ে স্পিকার বলেন, আপনি পুরুষদের সহযোগিতা কীভাবে পাবেন? আপনি সিট পেলে তো পুরুষের সিটটা চলে যাবে। কাজেই কেউ নিজের সিট ছেড়ে দিয়ে নারীকে সহযোগিতা করবে না। আপনিও করবেন না। এটা মহিলা-পুরুষের বিষয় নয়। প্রতিযোগিতার বিষয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়। মাঠে একজন প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নিজেতে দেখতে হবে।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে স্পিকার

বেসরকারি সদস্যদের খসড়া বিল নির্বাচনি প্রচারণা ব্যয় (নারী প্রার্থী) আইন, ২০২৩ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। নির্বাচনের আগে এই বিলটিকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কিন্তু প্রক্রিয়াটা চলমান থাকতে হবে। আরও সুসংহত ও সমৃদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও গণতন্ত্র ভাইব্যান্ট হতে পারে না। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র বলতে পারি না। নারীদেরকে গণতন্ত্রে বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া গেলে যেমন আইন প্রণয়নে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে, তেমনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।

আজকের বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বা সামষ্টিক ক্ষমতায়নে বিশাল অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের ভোটাররা নারী বান্ধব বলেই শেখ হাসিনা চারবারের প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কাজেই মহিলাদের জন্য কোনও ধরনের বাধা থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমাদের জনগণ মহিলাদেরকে, মা-দেরকে সাদরে গ্রহণ করেন। তারপর কিছু জায়গায় দৃষ্টিভঙ্গির বিষয় আছে। সেটাকে ওভারকাম করতে হয়। আর এটা করতে হলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও কার্যক্রমের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। নির্বাচনে জেতার সব থেকে বড় মন্ত্র হচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। সার্বক্ষণিক মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে ইসির ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থ প্রদানের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনও অর্থ চাওয়ার ব্যবস্থাপনা আমার জানা নেই। অন্য দেশে হয় কিনা বলতে পারি না। আমার পরামর্শ হচ্ছে- পার্টি যদি মনে করে তার আর্থিক দুর্বলতা আছে,তাকে সহযোগিতা করতে পারে। পার্টি থেকে এই ব্যবস্থাপনা হলে অনেক সুশৃঙ্খল হবে। তা যথাযথ হবে।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ড্যানা এল ওল্ডস বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনে নারীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থের প্রভাব ও পেশী শক্তি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই বিলটি হয়তো বর্তমান সংসদে পাশ হবে না, কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করি এই বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকবে এবং আগামীতে সংসদে পাশ হবে।

সভায় সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, হাবিবা রহমান খান, মনিরা সুলতানা, রওশন আরা মান্নান, কাজী কানিজ সুলতানা, আদিবা আনজুম মিতা, আরমা দত্ত, শামীমা আক্তার খানম, শেরিফা কাদের এবং আফরোজা হক মতামত প্রদান করে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন–ইউএসএআইডি’র গুড গভর্নেন্স টিম লিডার মেধাবী গিরি, ডিআরজি অ্যাকটিং অফিস ডিরেক্টর মারিয়া রেনডন, পলিটিক্যাল প্রসেস অ্যাডভাইজার লুবাইন চৌধুরী মাসুম, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক লিপিকা রানী বিশ্বাস, শাম্মী লাইলা ইসলাম, উপ পরিচালক অনিন্দ্য রহমান।

যা আছে প্রস্তাবিত বেসরকারি বিলে

মন্ত্রী ছাড়া অন্য সংসদ সদস্য উত্থাপিত বিলকে বেসরকারি সদস্যদের বিল বলা হয়। সংসদের কার্যপ্রণালী ৭২ (১) বিধি অনুসারে মন্ত্রী ব্যতীত সকল সংসদ সদস্য সংসদে বেসরকারি বিল উপস্থাপনের নোটিশ দিতে পারে।

নারী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনি প্রচারণা ব্যয় বিষয়ক বৈঠকে উপস্থাপিত খসড়া বিলে যেসব বিষয় স্থান পেয়েছে সেগুলো হলো-

* নারী প্রার্থীদের জন্য জনতহবিল গঠন-সরকার কমিশনের চাহিদা মোতাবেক প্রতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে, যা বাজেটের অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে।

* চূড়ান্তভাবে বৈধ শুধুমাত্র নারী প্রার্থীদের (দলীয় ও স্বতন্ত্র) জন্যই এ তহবিল প্রযোজ্য হবে।

* জন তহবিল গ্রহণের বাধ্যবাধকতা- যোগ্যতাসম্পন্ন কোনও নারী প্রার্থী যদি জন তহবিলের বরাদ্দ গ্রহণ করিতে না চান, তার জন্য এ তহবিল প্রযোজ্য হবে না।

* একই আসনে একাধিক নারী প্রার্থী থাকলে প্রত্যেকেই জনতহবিল হতে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

* জনতহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে ইসিতে অভিযোগ দিতে পারবে ও শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে।

* কোনও দল বা প্রার্থী তহবিল পাওয়ার পর শর্ত ভঙ্গ করলে বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বা যেকোনও পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ হতে বিরত থাকলে বা নির্বাচন বর্জন করলে তহবিল সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করতে পারবে।

* কমিশন জনতহবিলের হিসাব সংরক্ষণ: (ক) ইসি প্রতি অর্থবছরে বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থের যথাযথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করবে ও অর্থবছর শেষ হলে তা অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবর দাখিল করবে।

/ইএইচএস/আরআইজে/
সম্পর্কিত
সৌদিতে যাওয়ার পর থেকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে নিয়োগকর্তা
‘অগুরুত্বপূর্ণ’ বলেই অনুচ্চারিত?
স্পিকারের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সর্বশেষ খবর
অ্যাটলেটিকোকে বিদায় করে ১১ বছর পর সেমিফাইনালে ডর্টমুন্ড
চ্যাম্পিয়নস লিগঅ্যাটলেটিকোকে বিদায় করে ১১ বছর পর সেমিফাইনালে ডর্টমুন্ড
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি
চ্যাম্পিয়নস লিগঅবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি
গাজীপুরে ব্যাটারি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে চীনা প্রকৌশলীর মৃত্যু, অগ্নিদগ্ধ ৬
গাজীপুরে ব্যাটারি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে চীনা প্রকৌশলীর মৃত্যু, অগ্নিদগ্ধ ৬
নারিনকে ছাপিয়ে বাটলার ঝড়ে রাজস্থানের অবিশ্বাস্য জয়
নারিনকে ছাপিয়ে বাটলার ঝড়ে রাজস্থানের অবিশ্বাস্য জয়
সর্বাধিক পঠিত
ঘরে বসে আয়ের প্রলোভন: সবাই সব জেনেও ‘চুপ’
ঘরে বসে আয়ের প্রলোভন: সবাই সব জেনেও ‘চুপ’
উৎসব থমকে যাচ্ছে ‘রূপান্তর’ বিতর্কে, কিন্তু কেন
উৎসব থমকে যাচ্ছে ‘রূপান্তর’ বিতর্কে, কিন্তু কেন
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ১৩ জনের
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ১৩ জনের
চুরি ও ভেজাল প্রতিরোধে ট্যাংক লরিতে নতুন ব্যবস্থা আসছে
চুরি ও ভেজাল প্রতিরোধে ট্যাংক লরিতে নতুন ব্যবস্থা আসছে
প্রকৃতির লীলাভূমি সিলেটে পর্যটকদের ভিড়
প্রকৃতির লীলাভূমি সিলেটে পর্যটকদের ভিড়