চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ শতাংশ নগরবাসী। শুধু জুলাই মাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি। অগাস্টে প্রথম ১০ দিনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজারের ওপরে। এমন পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ জার্নালিজম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (পিবজা) ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে। শনিবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর পিক সিজন অগাস্ট থেকে অক্টোবর। ২০২২ সালে দেশে এ সময় ৬২ হাজার ৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল। মারা গিয়েছিল ২৮১ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৩৬৫ জন। বিগত ২২ বছরের মধ্যে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ।
তারা বলেন, বাংলাদেশে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে আটটি বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা। অথচ ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ৬৮১টি শয্যা রয়েছে। তাহলে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত অন্য শিশুরা কোথায় যাবে? গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে চিকিৎসা খরচ।
বক্তারা আরও বলেন, সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পরীক্ষার সরঞ্জামাদির দাম বাড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচের মধ্যে প্রায় অনেক ফারাক। সরকারি হাসপাতালে অ্যাপারেসিস প্লাটিলেট নিতে খরচ হয় এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। সেখানে বেসরকারি হাসপাতাল নেয় ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সাধারণ খরচ যেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, সেখানে প্রাইভেট হাসপাতালে খরচ পড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা।
সভা শেষে জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় ছিলেন– সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহী শামসাদ আরা, সহসভাপতি এম এ মোনায়েম, ম. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ড. দীপু সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দানিয়েল মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. বশিরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।









