ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে নিজস্ব স্থাপনা, বাড়ি, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পানির আধার বিনষ্ট করা এলাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
শনিবার (২৬ অগাস্ট) দুপুর ১২টায় বাসাবো কালিমন্দির-সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশক নিধনে জনসম্পৃক্ততা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ-পরবর্তী গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তাপস বলেন, সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে যেসব ওয়ার্ডে ১০ জনের বেশি রোগী পেয়েছি, সেসব ওয়ার্ডকে আমরা ‘লাল চিহ্নিত’ করেছি। লাল চিহ্নিত মানে বিপজ্জনক। সেখানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে আশঙ্কা থেকেই আমরা লাল চিহ্নিত করেছি এবং এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাড়ির মালিক, সব স্থাপনার মালিক, সামাজিক সংগঠন, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস-সহ সবাইকে নিয়ে আমরা ওয়ার্ডগুলোয় দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সকালে লার্ভিসাইডিং ও বিকালে এডাল্টিসাইডিংসহ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবো। যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। নিজস্ব স্থাপনা, বাড়ি, আঙিনাসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও পানির আধার ধ্বংস করা এলাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব।
নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে আমাদের প্রতিদিনের যে কার্যক্রম, সেটাও ব্যাপক উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। গত বৃহস্পতিবার আমাদের রোগীর সংখ্যা ৭০-এর নিচে চলে এসেছে। তবু আমরা সন্তুষ্টির ঢেঁকুর নিতে চাই না। এখনও বর্ষা শেষ হয়নি। গতকালও বৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং পানি কিছুক্ষণ পরপরই জমবে। তাই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বেগবান করেছি। যেহেতু নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, এই সুযোগে যদি একদম নির্মূলের পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে সামনের দিনে আর বাড়তে পারবে না। আমাদের লক্ষ্য হলো মশক প্রজননের আধার বিনষ্ট করা। আমরা যত সোর্স রিডাকশন করতে পারবো, ততই ফলপ্রসূ হবে। সে জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এই কার্যক্রম নিয়েছি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, পরিবহন মহাব্যবস্থাপক মো. হায়দর আলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, ২ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাসসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও ওয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও কাউন্সিলরা অংশ নেন।








