X
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪
৬ আষাঢ় ১৪৩১

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়: দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ মে ২০২৪, ১৫:৪৫আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১৬:১১

রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল এস এম জুলফিকার আলীসহ তিন জনকে সাড়ে ৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যায়ভাবে আটক করে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা গ্রহণের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। মামলায় পৃথক দুই ধারায় এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২৭ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি হলেন, মো. নূর উদ্দীন আহমেদ। এছাড়াও অভিযোগ প্রামাণিত না হওয়ায়  মো. নিরব হাসান সজিব নামে এক আসামির খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডবিধি আইনের ৩৪২ ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩৮৮ ধারায় ৪ বছর সবশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের কারাভোগ করতে হবে। আসামিদের সবগুলো সাজা একত্রে ভোগ করতে হবে।

এদিন রায় ঘোষণার আগে আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী খন্দকার নুরুজ্জামান রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবারের সঙ্গে কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১.৪০ মিনিটের দিকে বাদীর মোবাইলে উবার এর মাধ্যমে মালিবাগ গুলবাগ রোড থেকে একটি কল রিসিভ করেন। রাস্তা কাটা বলে কল দেওয়া ব্যক্তি জানায় তার ছোট ভাই বাদীকে মালিবাগ মোড়ের ভেতরে স্বপ্ন নামে দোকানের সামনে থেকে পথ দেখিয়ে পিকআপ পয়েন্টে নিয়ে আসবে। সেই মোতাবেক বাদী স্বপ্ন দোকানের সামনে গেলে নিরব হাসান সজিব পথ দেখানোর কথা বলে মলিবাগ কালসির গলির শেষপ্রান্তে নিয়ে যায়।

সেখানে গিয়ে পুলিশের পোশাকে আসামি মনিরুল ও জুলফিকারকে বাদী দেখতে পায়। আসামিরা বাদীর পরিচয় জিজ্ঞাস করে ও বাদীর গাড়ি তল্লাশি করে। পরে ড্রাইভার সিটের পেছনে হাত বুলিয়ে একটি লম্বা ট্যাপে মোড়ানো ৪/৫টি ইয়াবা টেবলেটের মতো জিনিস কিছু বাদীকে দেখায় এবং বাদীকে ওই পণ্যের ব্যবসায়ী বলে অভিযুক্ত করে। ওই সময় আরেক আসামি সাংবাদিক পরিচয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ও এসএম জুলফিকার বাদীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে জানায় এবং হাতকড়া পরিয়ে আটকে ফেলে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আসামি বাদীর গাড়িতে উঠে এবং গাড়ি চালিয়ে বড় গেট লাগানো খালি এক জায়গায় নিয়ে যেতে বলে। বাদী ওখানে যাওয়ার পর এক আসামি গেট বন্ধ করে দেয় একটি একচালা টিনের ঘরে নিয়ে যায়। এরপর বাদীকে বসতে বলে, এক পর্যায়ে আসামিরা সমঝোতার করতে চাপ প্রয়োগ করে। বাবু নামে আরেক আসামির সঙ্গে কথা বলে ৬০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। বাদী টাকা দিতে না চাইলে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় আসামিরা। বাদী অসুস্থ ও ডাইবেটিসের রোগী বলে শেষ নাগাদ ২৫ হাজার টাকায় রফাদফা হয়।

আসামিদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে শাহজাহানপুর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে খন্দকার নুরুজ্জামান মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু সিদ্দিক ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  পরের বছর ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

মামলার বিচার চলার সময়ে ১২ সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

/এআই/এফএস/
সম্পর্কিত
কর্মস্থলে ফেরা ও বাড়ি যাওয়া দুটোই চলছে
বেনজীর ও আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদ নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আদালত পাড়ায় এখনও ঈদের ছুটির আমেজ
সর্বশেষ খবর
সাত নদীর পানি বিপদসীমার উপরে
সাত নদীর পানি বিপদসীমার উপরে
গুণগত ও মানসম্মত চিকিৎসা চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গুণগত ও মানসম্মত চিকিৎসা চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে ২৬ জুন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে ২৬ জুন
শুক্রবার সকালে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দিয়ে শুরু কোপা, দেখবেন কোথায়?
শুক্রবার সকালে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দিয়ে শুরু কোপা, দেখবেন কোথায়?
সর্বাধিক পঠিত
‘লেবানন আক্রমণের পরিকল্পনা’য় অনুমোদন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
‘লেবানন আক্রমণের পরিকল্পনা’য় অনুমোদন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
শেখ হাসিনার ‘নজিরবিহীন’ ভারত সফরে সঙ্গী হচ্ছেন যারা
শেখ হাসিনার ‘নজিরবিহীন’ ভারত সফরে সঙ্গী হচ্ছেন যারা
‘রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউরই ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই ইফাতের বাবা’
‘রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউরই ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই ইফাতের বাবা’
‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন নিয়ে যাত্রীদের যত আপত্তি
‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন নিয়ে যাত্রীদের যত আপত্তি
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত