X
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
৪ আষাঢ় ১৪৩১
নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

গর্ভধারণ এখনও ‘অসুস্থতা’ আর ‘ফিসফাসের’ বিষয়?

উদিসা ইসলাম
২৮ মে ২০২৪, ০০:০১আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০০:২৬

সন্তানের স্কুলের প্যারেন্টস মিটিংয়ে এক মা আরেক শিক্ষার্থীকে বাবার সঙ্গে আসতে দেখে জানতে চান— ‘ভাই, ভাবিকে দেখছি না যে!’ জবাবে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘হ্যাঁ, উনিইতো আসেন, একটু অসুস্থ।’ কী হয়েছে জানতে চাইলে পুরুষ অভিভাবকের জবাব, ‘ওই আর কী।’ মা অভিভাবক আরেকটু কৌতূহলী হয়ে উঠলে তিনি বলেন, ‘এই আর কী আমাদের সেকেন্ড ইস্যু, বুঝেনই তো।’ ভাবির শারীরিক কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সেই ভাই জানান, ভাবি মানে তার স্ত্রী একদম ফিট আছেন। চিন্তার বিষয় হলো— তাহলে উনি ‘অসুস্থ’ বললেন কেন?

ফিট আছেন অথচ ‘অসুস্থ’— এটা কেবল সেই বাবাই নয়, হাজারও বাবা এমনকি মায়েরাও গর্ভধারণের খবর দিতে গিয়ে ‘অসুস্থতা’ শব্দটা বলেন। কিংবা গর্ভধারণের কথা জানাতে গিয়ে নিচু স্বরে খবরটা দিয়ে থাকেন। যেনো এটা সবার সামনে বলাটা লজ্জার। মানসিক চিকিৎসকরা বলছেন, এখান থেকে বের হতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর সবগুলো স্তরে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকতে হবে পরিবারের। তাহলে মাতৃমৃত্যুও কমবে। কিন্তু ট্যাবু নিয়ে এই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব না।

এই বিবেচনায় চিকিৎসকরা বলছেন, যে দেশে এখনও গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসবের কোনও সিদ্ধান্তে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে না, সেখানে মাতৃত্ব নিরাপদ করা বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি আরও দ্রুত পরিবর্তন করতে চাইলে বাড়ির পুরুষদের ট্যাবু ভাঙতে হবে এবং বেশকিছু বিষয়ে নারীকে তার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভ্যস্ত করে তুলতে মানসিক সহায়তা দেওয়ার দরকার আছে।

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

আজ ২৮ মে, নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয়। কেবল মৃত্যু সংখ্যা গুণে তা কমানো যাবে না উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলছেন, প্রসবকালীন জার্নিটা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে।

মূলত, অন্তঃসত্ত্বাকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী সময়ে নারীর জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই নিরাপদ মাতৃত্ব। গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন জটিলতার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ৮৩০ জন নারীর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশের মৃত্যু ঘটে উন্নয়নশীল দেশে। সেই দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে ১৯৮৭ সালে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত নাইরোবি কনফারেন্সে এই নিরাপদ মাতৃত্বের ঘোষণা করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল— ২০০০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ মাতৃমৃত্যু কমানো। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে এ বিষয়ে অনুমোদন দিলে ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালন শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ উদ্যোগকে টেকসই উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত করে। 

কেন এখনও নারীর শারীরিক-মানসিক পরিবর্তনটাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলাপই তোলা সম্ভব হয় না, পিরিয়ডের কথা, মা হওয়ার কথা ফিসফাস করে বলতে হয়— প্রশ্নে প্রশ্নে অধিকারকর্মীও  নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবির বলেন, ‘আমাদের এখানে পুরুষরা শরীর ও চিকিৎসা— এসব বিষয়গুলোকে প্রয়োজন হিসেবে ভাবতে শিখে বড় হয় না। একজন রোগীর শরীর যে কেবলই কয়েকটি অঙ্গ, সেভাবে দেখতে পারেন না।’

কুমুদিনী মহিলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, এর সঙ্গে শিক্ষার বিষয়টি যুক্ত। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের শিক্ষার হার বাড়ানো না গেলে এবং প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয় নিয়ে উন্মুক্ত আলাপের পরিবেশ তৈরি না করলে বিষয়গুলো যে ‘স্বাভাবিক’ সেটা মগজে ঢুকবে না।’’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ১৮ বছরের নিচে বাল্যবিবাহের হার ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ১৫ বছরের নিচে এই হার ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে এই যে ফিসফিসিয়ে বলা, বা ঠিক কীভাবে বিষয়টি ঘোষণাদে— তা বুঝতে না পারার বিষয়গুলো পুরুষকে বুঝতে হবে আগে।’

বিলকিস আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘পুরুষের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে নারীদের মধ্যে কৌতূহল হয়তো আছে, কিন্তু নারীর কারণে তাকে মানসিকভাবে হয়রান হতে হয় না। কিন্তু নারীর শারীরিক স্বাভাবিক যে পরিবর্তন ও প্রক্রিয়া, সেগুলো নিয়ে পুরুষের উদাসিনতা থেকে টিপ্পনী কাটার বিষয়গুলো পরিবর্তন হওয়া জরুরি। আমাদের এখানে পুরুষরা... চিকিৎসাকে চিকিৎসা হিসেবে, রোগীর শরীর হিসেবে দেখতে পারেন না। পুরুষ গাইনি চিকিৎসক প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু নারী চিকিৎসকের কাছেও নিতে চান না। সে জানেই না শরীরের কী পরিবর্তন হয় এবং তার যৌন জীবনের পরিবর্তনগুলো কী হবে। পুরো সময়টা মানসিক টানাপড়েনে কাটে। সেটাও তাকে নিরাপদ মাতৃত্বর জায়গায় নাজুক করে তোলে।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
বাংলাদেশ থেকে নারী অভিবাসন কম কেন?
‘বাইরে বাবা-মাকে ছাড়া ঈদ করছি খারাপ লাগছে, সবকিছুই দেশের জন্য’
হত্যার পর তিন জায়গায় ফেলা হয় দেহাংশ, পরিচয় খুঁজছে পিবিআই
সর্বশেষ খবর
ছাগলের চামড়া ২ টাকা ফুট, গরুর ১০ টাকা!
ছাগলের চামড়া ২ টাকা ফুট, গরুর ১০ টাকা!
শেষ মুহূর্তে নাটকীয় জয় পর্তুগালের
শেষ মুহূর্তে নাটকীয় জয় পর্তুগালের
ঈদের তৃতীয় দিনে ৩১টি নাটকও টেলিছবি
ঈদের তৃতীয় দিনে ৩১টি নাটকও টেলিছবি
সাগর ও পাহাড় দেখতে গিয়ে দুই পর্যটকের মৃত্যু
সাগর ও পাহাড় দেখতে গিয়ে দুই পর্যটকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে, ভারতীয় জ্যোতিষের ভবিষ্যদ্বাণী
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে, ভারতীয় জ্যোতিষের ভবিষ্যদ্বাণী
থমথমে ‘তুফান’, অন্তর্জালে ‘দরদ’ মুগ্ধতা
থমথমে ‘তুফান’, অন্তর্জালে ‘দরদ’ মুগ্ধতা
অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা
অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা
২৪ বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন
২৪ বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন
পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে: রিপোর্ট
পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে: রিপোর্ট