সহিংসতামুক্ত সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা। শুক্রবার (৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সহিংসতামুক্ত সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক মানববন্ধনে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এসময় সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিল আরও দুই সংগঠন গ্রীন ভয়েস ও সবুজ পাতা।
মানববন্ধনে বাপার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, আজ আমাদের বিপ্লব হয়েছে। তবে এটা আসলে বিপ্লব নয়, পরিবর্তন। এই পরিবর্তন হয়েছে কারণ শাষণে ত্রুটি ছিল। কেউ কেউ বলতে চান, স্বাধীন করেছেন। আমরা স্বাধীন একবারই হয়েছিলাম।
তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইটা হলো রাষ্ট্র পুনর্গঠনের। এই পুনর্গঠনের আজ পাঁচ দিন পার হচ্ছে। তারা দেখিয়েছে কীভাবে কাজ করতে হয়, ট্রাফিক তারা পুলিশের চাইতে ভালো নিয়ন্ত্রণ করছে। এই যে অরাজকতা হচ্ছে, এর কারণ সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ও প্রতিশোধ পরায়ণতা। কিন্তু কেউই সেটি করতে বলেনি। ড. ইউনুস কিন্তু বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া যাবে না, শান্ত থাকতে হবে। এই সরকারেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাদের সেই সীমাবদ্ধতা মনে করিয়ে দিতে বলেছেন। যদি তারা কোনও ধরনের এদিক-সেদিক করার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের ভাষা আরও জোরালো হবে।
বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট পারভীন বলেন, দেশটা আমাদের, দেশের জন্য আমাদেরই কাজ করতে হবে। সারা দেশ আজ অনিরাপদ ও অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। সবার প্রতি আহ্বান দেশকে এগিয়ে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন এবং সহিংসতাকে পরিহার করুন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম খান বলেন, এটা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ধর্মের অর্জন নয়। এটা আমাদের সম্মিলিত অর্জন। তাহলে কেন রাহুল আনন্দের বাড়িতে হামলা, কেন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা? ছাত্র জনতার রক্তস্নাত এই অর্জন সমুন্নত রাখতে আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। কোনও ভেদাভেদ চাই না।








