রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পর্বতারোহী শায়লা বিথীর ওপর হামলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিক্ষোভ করেছে নারী বিষয়ক সংগঠন শক্তি নেটওয়ার্ক। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর ফুটওভার ব্রিজের পাশে শক্তি নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ প্রতিবাদের আয়োজনে করা হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, গত শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ফুটওভার ব্রিজে পর্বতারোহী শায়লা পারভীন বীথির ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। স্বৈরাচার পতনের পর চলমান অস্থিরতার সুযোগে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে যা আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ও নারীর স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে দাঁড়ান। তারা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান। এসময় অংশগ্রহণকারী তাসনিয়া আফরোজ বলেন, আমরা দেখছি শহর থেকে গ্রামে, পর্যটন এলাকা, মেট্রোরেল ও রাস্তা-ঘাটে বিভিন্ন বয়সের নারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। পোশাক নিয়ে কটূ মন্তব্য, চলাচলের অধিকার খর্ব করা, অবমাননা ও নিপীড়নমূলক আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা, যৌন হয়রানি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণসহ নানা ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের মাত্রা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সায়কা শাহরিন দিশা বলেন, নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধ এবং মানবিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এবং পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আজ শায়লা, কাল আমি, আপনি, অথবা আমাদের পরিবারের কেউ হতে পারে। তাই আমাদের সবাইকে এক হয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। চুপ না থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীর পাশাপাশি পুরুষরাও অংশ নেয়। এসময় তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। শক্তি নেটওয়ার্কের সদস্য আমিনা সুলতানা সোনিয়া বলেন, শায়লা বিথীর ওপর হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বত্র নারীর ওপর হামলা ও নিপীড়ন তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ টিমে ‘স্ট্রিট হ্যারাসমেন্ট’ প্রতিরোধে পুলিশের নারী সদস্য থাকতে হবে।









