রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মালামাল উদ্ধারসহ ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন আশরাফুল হক খান তুষার ও রাকিব হাসান আরফিন।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পৃথক অভিযানে উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা দুইটি মোবাইল ফোন, নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, একটি ম্যানিব্যাগ, ১০০ ডলার, ৩৭০ মালয়েশিয়ান রিংগিত, একটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া স্বর্ণের রিং, তিনটি স্বর্ণের নাকের নথ, একটি স্বর্ণের রিং, একটি স্বর্ণের নাকফুল, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান।
তিনি জানান, গত সোমবার রাত ৪টার দিকে মো. শহিদুল্লাহ ও তার স্ত্রী বাসে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন। এসময় তারা মাস্কট প্লাজার সামনে যাওয়ার সময় দুইজন দুষ্কৃতকারী সিএনজি থেকে নেমে তাদের স্ত্রীকে ধারালো চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা ২টি মোবাইল ফোন, একটি ম্যানিব্যাগ (যাতে ছিল মালয়েশিয়ান ৩৭০ রিংগিত, মালয়েশিয়ান ওয়ার্ক পারমিট কার্ড, তিনটি ভিসা কার্ড, নগদ দুই হাজার আটশ' টাকা ও একটি ১০০ ডলারের নোট) এবং একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভিকটিম শহিদুল্লাহর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকালে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে আশরাফুল হক খান তুষার ও একই দিন রাতে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে রাকিব হাসান আরফিনকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা রওনক জাহান জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরা বিভাগ ছিনতাই প্রতিরোধে দৃশ্যমান পুলিশিং ছাড়াও ছিনতাইয়ের হটস্পট ও বিভিন্ন ছিনতাইকারী গ্রুপ শনাক্ত এবং মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে।









