স্ট্রিট চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যাওয়ারনেস উইক (১৮-২৪ জুলাই) পালন উপলক্ষে “রাস্তার শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি” শীর্ষক নীতি-সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের উদ্যোক্তা গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট (জিএসসি)।
বুধবার (২৩ জুলাই) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা, সমাজকর্মী, গবেষক, শিশু অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা। সংলাপে “Violence Against Street-connected Children and its Implications on Health and Mental Health” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্ট পরিচালিত এই গবেষণায় সহায়তা করেছে ওপেন ইউনিভার্সিটি, ইউকে এবং ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক, ইউএসএ।
গবেষণায় ৫৯২ জন রাস্তায় বসবাসকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জরিপ ও ৩২ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। এসবের মধ্যে রয়েছে— ১০০% শিশু শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার; ৯৫% শিশু আর্থিক নির্যাতনের ভুক্তভোগী; এই সহিংসতার অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গ্লোবাল স্ট্রিট কানেক্টের প্রতিনিধি ড. হাসান রেজা বলেন, “এই শিশুদের রক্ষা করতে হলে আমাদের অবিলম্বে নীতিমালার সংস্কার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ হায়দার বলেন, “শৈশবের ট্রমা শিশুদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে, তাই আমাদের একটি ট্রমা-সংবেদনশীল এবং অধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
জিএসসি’র ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী মো. আবদুস সামাদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এসময় তিনি ভবিষ্যতের জন্য একটি নীতিনির্ধারণী রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন।
সংলাপের শেষে অংশগ্রহণকারীরা তিনটি মূল দাবিতে একমত হন। সেগুলো হলো— শিশুদের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন;
পুনর্বাসন ও সেবা প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা; শিশুদের ক্ষমতায়নে কমিউনিটি-নির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ।








