রাজধানীতে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বনানী থানা পুলিশ।
রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বনানীর ‘অ্যামাজন লিলি লেক ভিউ রেসিডেন্স’ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা নগদ ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—পান্না পুনম হাওলাদার ওরফে কেয়া (২৬) এবং মো. মামুন খান (৩৭)।
প্রতারণার কৌশল হিসাবে ডিএমপি জানায়, ভুক্তভোগী মো. নাদিত হাসান রকি রাজধানীর কুইন গ্লোবাল কনসালট্যান্ট অ্যান্ড আইইএলটিএস কোচিং প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসামিরা তার ও অন্যান্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তর সরবরাহের প্রলোভন দেখান।
রকি প্রথমে তাদের প্রলোভনে পড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আসামিরা প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
ডিএমপি আরও জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীরা বনানীর ওই আবাসিক হোটেলে এসে আসামিদের হাতে টাকা দেন। রাতে তাদের কয়েকটি প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সরবরাহ করা উত্তর আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—কেবল কিছু প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়।
পরীক্ষা শেষে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা অস্বীকার করে এবং ভুক্তভোগীদের নানা ধরনের হুমকি দেয়। পরে প্রতারিত শিক্ষার্থীরা বনানী থানায় অভিযোগ করলে মামলা দায়ের হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তদন্ত চালিয়ে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করে। শনিবার রাতে হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করে আসছিল।’
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








