চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুই দল শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি শান্ত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অনুপম সেন মঙ্গলবার বিকেলে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের দামপাড়ায় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ৩১তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানের রিহার্সেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিদায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাসিরকে আমন্ত্রণ জানানো হবে নাকি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে তা নিয়েই বিরোধ তৈরি হয়। দুপুর দেড়টার দিকে কথা কাটাকাটির জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নাসিম আহমেদ সোহেল (২৫) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আরও তিন শিক্ষার্থীও ছুরিকাহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর বেলা ২টার দিকে সোহেল মারা যান। সোহেল এমবিএর শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুমিল্লায়, বাবার নাম আবু তাহের। তার বেশ কয়েকজন বন্ধু চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সদস্য।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোহেলের সহপাঠীরা ক্যাম্পাস সংলগ্ন প্রবর্তক মোড়ে অবরোধ করে এবং ভাঙচুর চালায়। পরে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবরোধ করে ভাঙচুর চালায় এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
সোহেল মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দরকিল্লা ও চেরাগী পাহাড় মোড়, আগ্রাবাদ ও মুরাদপুর সড়কে অবরোধ দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে চট্টগ্রাম শহরজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি মিছিল থেকে দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর পাওয়া যায়। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়র মূল ভবনের নিচে অবস্থানরত বেশ কয়েকটি দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাসির চমেক মর্গে সোহেলের লাশ দেখতে যান। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
/এফএস/এজে/








