পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া মামলায় চার্জশিট

হামলার নেতৃত্বে ছিলেন জুলাই আন্দোলনের ১১ মামলার আসামি সোহাগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:২৩আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:২৩

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও জুলাই আন্দোলনের আসামি গোলাম মোস্তফাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহদাত হোসেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা আনিসুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে ‘মব’ তৈরি করে পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মব সৃষ্টিতে সোহাগের সঙ্গে ছিলেন তার দুই সহযোগী—আরিফুল হাসান মীর সাগর ও সোহেল শাহরিয়ার। তাদের সমন্বয়ে অন্তত ১৭ জন ব্যক্তি প্রকাশে হামলায় অংশ নেন। ঘটনার পর পলাতক আসামি গোলাম মোস্তফাসহ অন্যরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে—এ বিষয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. শাহদাত হোসেন গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এর আগে ১২ মার্চ মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া বি-ব্লকের সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় সোহাগের অনুসারীরা।

মামলাটি দায়ের করেছিলেন পুলিশের পক্ষ থেকে এসআই শহিদুল ইসলাম। মামলার তদন্ত শেষে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন—গোলাম মোস্তফা, আনিসুর রহমান সোহাগ, আরিফুল হাসান মীর সাগর, সোহেল শাহরিয়ার, দেলোয়ার হোসেন মণ্ডল, আব্দুল্লাহ শেখ, সাইফুজ্জামান শোভন, রাজিব শিকদার, আসলাম শিকদার, রাকিব ঠাকুর, হাসানাত সরদার ওরফে হাসান, মেহেদী হাসান সাব্বির, জহিরুল ইসলাম, আরিফিন আলম ওরফে ইমন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সানিয়াত সরদার ও হাসিব মুন্সী।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় এ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছিলেন আনিসুর রহমান সোহাগ, আরিফুল হাসান মীর সাগর ও সোহেল শাহরিয়ার। তারা নিচে নেমে ‘হুকুম দিয়ে’ পুলিশের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন। হামলার পর মোহাম্মদপুর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহদাত হোসেন বলেন, ‘অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের কোনও অবজারভেশন এখনও পাওয়া যায়নি। আসামিরা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে—এ তথ্য ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।’

তিনি জানান, এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

/এবি/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান