শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে রোডম্যাপ দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের দাবিও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছরপূর্তি উপলক্ষে সোমবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। তিন দফা দাবি বাস্তবায়নেও জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনতিবিলম্বে চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনরত পক্ষসমূহ এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজন করতে হবে। এছাড়া আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখে পার্বত্য সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে হবে।
সভায় মূল বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেনে বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত, বহু- ভাষাভাষী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। কিন্তু স্বাধীনতার পর সংবিধানে তাদের পরিচয় অস্বীকার করার ঐতিহাসিক ভুলের কারণে জুম্ম জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক-মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগের সংঘাতের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। আমরা আশা করেছিলাম, এই চুক্তি সেই ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের পথ দেখাবে।”
তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে, প্রায় ২৮ বছর পরও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়িত হয়নি। পাহাড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য ও শোষণ আজও অব্যাহত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার দাবি করলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’র সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য প্রণব কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল প্রমুখ।








