সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:০২আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:০২

আওয়ামী লীগের শাসনামলে র‌্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম-নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। তবে স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

এদিন বিচারকাজের শুরুতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিকালে তিনি টিএফআই সেলে গুমের বীভৎস বর্ণনা তুলে ধরেন। গুমের অন্ধকার পেরিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক নতুন বাংলাদেশ উদিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম। এ সময় গুম হওয়া ব্যক্তিদের চিত্র তুলে ধরেন।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্য দুভাবে নির্ধারণ হতো বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর । এর মধ্যে ভাগ্য ভালো হলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হতো। আর দ্বিতীয়ত সাত-আট বছর গুম রাখার পর অজানা কোনও স্থানে ফেলে রাখা হতো। এ ছাড়া আরও ভয়াবহ নির্যাতনের কথা সামনে আনেন চিফ প্রসিকিউটর।

পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে এখানে আসামি করা হয়েছে, তাদের ভার্চ্যুয়ালি শুনানির সুযোগ দিতে একটি আবেদন করেছিলেন একজন আইনজীবী। কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারকে মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন— যা এই শুনানির সময় আমরা লক্ষ্য করেছি।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন, এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। আমরাও সুস্পষ্টভাবে বলেছি, এটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার নয়। কারণ, সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে থাকা অবস্থায় আসামিরা এসব মারাত্মক অপরাধ করেছেন। তখন তারা র‍্যাবে ছিলেন। এ সব অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা হয়। সুতরাং, তাদের পক্ষে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রার্থনা খারিজ করেছেন আদালত।

তাজুল ইসলাম বলেন, আদালত বলেছেন— আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকই সমান। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই সবাইকে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। বিচারের সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইনোসেন্ট বিবেচিত হবেন। কিন্তু আসামি হিসেবে অন্যরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করেন, এর বাইরে নতুন কিছু পাবেন না তারা।

 

/বিআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
মানবতাবিরোধী অপরাধসাবেক মন্ত্রী ফরহাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৯ আগস্ট 
মানবতাবিরোধী অপরাধসাবেক এসপি আনিসুরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু ১৬ জুন 
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞসাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান