সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে হওয়া পাঁচটি মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে, নতুন করে জুলাই হত্যায় যাত্রাবাড়ী থানার আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। ফলে পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না সাবেক প্রধান এ বিচারপতি।
জানা গেছে, গত ১০ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে খায়রুল হককে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর এ আবেদন করা হয়। মামলাটির শুনানির জন্য আগামী ৩০ মার্চের দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়িতে মাদরাসাছাত্র মো. আরিফ নিহতের মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ির কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হার্ডিঞ্জং ফাজিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট আরিফের বাবা মো. ইউসুফ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ৮ মার্চ জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চার মামলায় সাবেক এ প্রধান বিচারপতিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। ওইদিন তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে সাবেক এ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত একটি রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
তারও আগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া গত বছরের ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। সবশেষ গত ৮ মার্চ পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট।








