কাঠামোগতভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাইরে রাখলে সুপ্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। কাঠামোগত দুর্বলতা যেমন- সীমাবদ্ধ চলাচল এবং সীমিত অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ মানসিক সংকট তৈরি করে।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘দুর্বলতা থেকে স্থিতিস্থাপকতা: নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জীবিকার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ওয়াইপিএসএ) সহযোগিতায় জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) পিস বিল্ডিং প্রোগ্রাম এই সেমিনারের আয়োজন করে।
গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন।
গবেষণায় বলা হয়, মানবিক সংগঠনগুলো কিছু অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির জন্য জীবিকা নির্বাহের উদ্যোগ চালু করলেও তাদের পরিধি ও স্থিতিশীলতা সীমিত রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ সময় জিসিইআরএফের নির্বাহী পরিচালক ড. খালিদ কোসের, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি টমোহাইড ইচিগুচি উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থিতিশীলতা জোরদার করার জন্য সমন্বিত নীতিগত পদ্ধতির প্রয়োজন— যা অর্থবহ জীবিকার সুযোগ, মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা, যুব সম্পৃক্ততা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন প্রচারের পাশাপাশি কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলা করে।
গবেষণার উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান রেজা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শরণার্থী বসতিগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত নীতিগত পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। অস্থায়ী মানবিক সহায়তার বাইরে যাওয়ার জন্য, গবেষণাটি বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কাজের সুযোগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে সুপারিশ আকারে। এটি জোর দেয় যে, তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা রোধ করার জন্য শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং যুব নেতৃত্বের উদ্যোগ অত্যাবশ্যক।
উপরন্তু, পরামর্শগুলো সামাজিক বন্ধন মেরামত করতে এবং মানসিক ট্রমা মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সম্প্রদায় গঠনের প্রোগ্রামগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রশাসন এবং সুরক্ষা প্রোটোকলগুলো শক্তিশালী করাও দুর্বল গোষ্ঠীগুলোকে রক্ষা করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তৈরির জন্য একটি মূল প্রয়োজনীয়তা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে, একটি সামগ্রিক পদ্ধতি—মনোসামাজিক সহায়তার সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কারকে একীভূত করা, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির জটিলতাগুলো পরিচালনা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানানো হয়েছে গবেষণার সুপারিশে।









