‘আমি পুলিশ ভাইদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু, আর কখনও চাইবো না,’ কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় এসব কথা বলেছেন কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়। জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশে আবু নোমান নামে এক ব্যক্তি আহতের মামলায় শোয়াইবুরকে বুধবার (১ এপ্রিল) গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে সিএমএম আদালতের এজলাসে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এজলাসে তোলার সময় শোয়াইবুর রহমান বলেন, “পুলিশের চাকরিতে আমি এমন কোনও কাজ করিনি যে মামলা দেবে। পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে বলবো, আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি ক্ষমা চাইতেছি। আমি পুলিশ ভাইদের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। আমি আর কখনও চাইবো না। আমাকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন। আমার ছোট একটা বাচ্চা আছে, আমাকে বাচ্চার কাছে ফিরে যেতে দেন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমি তাকে বলতে চাই, আপনি একজন সৈনিকের সন্তান। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি অন্যায় কিছু করিনি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। তাকে বলতে চাই, কেন আমাকে বারবার মিথ্যা মামলায় দেওয়া হচ্ছে। আমাকে মামলা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু কমিশনার জানে না, আইজিপি জানে না। তাহলে কে মামলা দিচ্ছে।”
শোয়াইবুর রহমান বলেন, “বলা হয় আগে স্বৈরাচার ছিল, তাহলে এখন স্বৈরাচারী কায়দায় কে মামলা দিচ্ছে। আমি পুলিশের প্রত্যেকটা স্যারের কাছে ক্ষমা চাইছি, আমার ভুল কোনটা ছিল? আমি কনস্টেবল শোয়াইব, আমার ভুল কোথায় ছিল আমি জানতে চাই। আমি কোনও দলের ছিলাম না। আমি যদি কোনও দলের থেকে থাকি, আমাকে যেন আরও মামলা দেওয়া হয়। আমি যদি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়।”
আওয়ামী সরকারের পতনের পর নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সংগঠিত করে আলোচনায় আসা কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমানকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
গত ১৬ মার্চ রামপুরা থানার এসআই মোহাম্মদ গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী , জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশে আন্দোলন করছিল। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন আবু নোমান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন তিনি।