যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: আনু মুহাম্মদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।

দেশটির সঙ্গে যেসব দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্কও স্থাপন করতে পারবে না। এতে এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

‎অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ ধরনের বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমাদের ওপর এমন অনেক পণ্য আমদানির চাপ তৈরি হবে, যেগুলো বাস্তবে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি যেসব পণ্য আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে সংগ্রহ করতে পারি, সেগুলোও বেশি দামে নির্দিষ্ট উৎস থেকে আমদানি করতে বাধ্য করা হবে। এর কারণে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ের চাপে পড়বে এবং বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে।

তিনি বলেন, এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবো, কোথা থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কিনবো, এসব সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। 

‎সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের যে সক্ষমতা গড়ে উঠেছে তা মূলত তুলনামূলক নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে এমন কিছু মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে যেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না। ‎

গবেষক‎ মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পকে ধ্বসিয়ে দেবে ও তিল তিল করে গড়ে তোলা পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংস করবে। গরিব মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন করবে। জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এ ধরনের চুক্তি মূলত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে। মার্কিন তাবেদারি করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না।

/এমকে/আরকে/
সম্পর্কিত
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী