বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা সংকটে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৮

বেশ কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীতে। আর শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশা ও অটোরিকশাচালক, ভ্যানচালক, মুচি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও দিনমজুরদের অনেকেই প্রয়োজনমতো কাজ পাচ্ছেন না। ফলে দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

বিভিন্ন পেশার নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টিতে যাত্রী ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেকের দৈনিক আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতায় কর্মযান নষ্ট হয়েছে, আবার কারও ঘরেও ঢুকেছে পানি।

অটোরিকশাচালক মো. হানিফ বলেন, বৃষ্টিতে ভাড়া কিছুটা বেশি মিললেও যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে। তার ভাষায়, “বৃষ্টিতে আমাদের সুবিধার কিছু নেই, সমস্যাই বেশি। যাত্রী কম, আবার গাড়ি নিয়ে বের হলেও রাস্তায় পানি থাকায় মোটর নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।”

তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের ভেতর হাঁটুর ওপরে পানি। সারা রাত পানি সরানোর পর আবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হতে হয়েছে।

মিরপুর এলাকায় জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন রিপন চৌধুরী রবি দাশ। তিনি বলেন, “আগে প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকার কাজ হতো। এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি হচ্ছে না। বৃষ্টিতে ক্রেতা আসে না, আমিও ঠিকমতো বসতে পারি না।”

দিনমজুর মো. আলমাস জানান, প্রতিদিনের আয়ের ওপরই তার সংসার চলে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মিরপুর-১-এর মুক্তবাংলা মার্কেটের সামনে কাজের আশায় অপেক্ষা করেও কোনো কাজ পাননি।

তিনি বলেন, “আজ কাজ পাইনি। এখন কী হবে জানি না। স্ত্রী একটি বাসায় কাজ করেন। দুই ছেলেকে নিয়ে এখন জমানো কিছু টাকা দিয়েই চলতে হবে।”

আগারগাঁওয়ের ভ্যানচালক মো. ইসরাফিল বলেন, তিনি মূলত আসবাবপত্র পরিবহনের কাজ করেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়ার অনেক দোকান বন্ধ থাকায় কাজও নেই। “কাজ বন্ধ মানেই ইনকাম বন্ধ। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে অবস্থা আরও খারাপ হবে,” বলেন তিনি।

ফল বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বাবু বলেন, বৃষ্টিতে বিক্রি অনেক কমে গেছে। “আগে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার টাকার ফল বিক্রি করতাম। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় এক হাজার ২০০ টাকায়। দোকান না খুললেও ক্ষতি, খুললেও বিক্রি নেই। এর মধ্যে ফল পচে গেলে আরও লোকসান।”

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কেবল সাময়িক দুর্ভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আশা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আবারও নিয়মিত কাজ ও আয় ফিরবে।

/এএজে/এম/
সম্পর্কিত
চট্টগ্রামে মৃত্যু বেড়ে ৫৩, বন্যা মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নিলো প্রশাসন
বৃষ্টি কবে শেষ হবে?
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা, তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা 
সর্বশেষ খবর
কাটেনি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
কাটেনি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
শাহজালালে ভিজছে আমদানি পণ্য, ক্ষতির শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
শাহজালালে ভিজছে আমদানি পণ্য, ক্ষতির শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
নির্বাচনি কমিটি নিয়ে বিরোধ, রাজশাহীতে বাস চলাচল বন্ধ
নির্বাচনি কমিটি নিয়ে বিরোধ, রাজশাহীতে বাস চলাচল বন্ধ
রাজধানীতে ডিবির অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার ৭
রাজধানীতে ডিবির অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার ৭
সর্বাধিক পঠিত
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ স্থগিতে আইনি নোটিশ
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ স্থগিতে আইনি নোটিশ
বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 
বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 
কেন শিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম
কেন শিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম
শিবির ছাড়ার ঘোষণা সাদিক কায়েমের
শিবির ছাড়ার ঘোষণা সাদিক কায়েমের
আমার প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই টিস্যু বের হবে: প্রধানমন্ত্রী
আমার প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই টিস্যু বের হবে: প্রধানমন্ত্রী