টেলিভিশন চ্যানেলের সংকট কাটাতে সংযোগ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব অ্যাটকোর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ মার্চ ২০২০, ১৯:১০আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ১৯:১৭

টেলিভিশন চ্যানেলের সংকট কাটাতে সংযোগ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব অ্যাটকোর

ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও কর্মীদের সুরক্ষার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফি আদায়ের প্রস্তাব করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। একইসঙ্গে কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তায় চ্যানেলের ২৫ শতাংশ মালিকানাও দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের দ্বিতীয় ‘সম্প্রচার সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সম্প্রচার সম্মেলনের ‘নীতি সংলাপ-শিল্পী সুরক্ষা’ শীর্ষক দ্বিতীয় পর্বে অ্যাটকোর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বাবু তার প্রস্তাবে বলেন, ‘সংযোগ ফি ২৫০ টাকা, বিদেশি ১০০ চ্যানেলের জন্য ১০০ টাকা ও দেশি চ্যানেলে জন্য ৫০ টাকাসহ মোট ৪০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। জেলা শহরের জন্য সংযোগ ফি ২০০ টাকা, বিদেশি ১০০টি চ্যানেলের জন্য ৮০ টাকা, দেশি চ্যানেলের জন্য ৪০ টাকা। উপজেলা শহরের সংযোগ ফি ১৫০ টাকা, বিদেশি ১০০টি চ্যানেলের জন্য ৬০ টাকা, দেশি চ্যানেলের জন্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।’

মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘এ বাবদ কেবল অপারেটররা বছরে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পাবেন। সরকার অন্তত ২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর আদায় করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরকম একটা ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পারলে প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা এই খাত থেকে আয় করা সম্ভব। সরকারকে আমরা বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করে দেবো।’

সংবাদকর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের বাইরে যদি প্রত্যেক টেলিভিশন চ্যানেল ৩ কোটি করে টাকা পায় তাহলে বেতন-ভাতা, গ্র্যাচুইটি, ইনক্রিমেন্ট, ইনস্যুরেন্স পাওয়ার পক্ষে কারো কোনও অসুবিধা থাকবে? তবে এগুলো পাওয়ার পর সো-কল্ড মালিকপক্ষ যাতে বদলে না যায়, তাই টেলিভিশনে পেশাজীবীদের অন্তত ২৫ শতাংশ মালিকানা থাকা প্রয়োজন। কারণ আমরা কোটি কোটি টাকা এনে দিলাম আর আমাদের চাকরি থাকবে না, তা হতে পারে না।’

মোজাম্মেল বাবুর এই প্রস্তাবের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল বলেন, উইন-উইন সিচুয়েশনে এই শিল্পকে রক্ষা করার জন্য যেখান থেকে রাজস্ব আসে না, সেখান থেকে রাজস্ব পেতে হবে। এর একটা অংশ যাতে আপনারা পেতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হবে।  পেশাজীবীদের স্বার্থ মালিকদের দেখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক বিকাশের কারণে ইলেকট্রনিক মিডিয়া চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নয়। এটি আন্তর্জাতিক একটি প্রেক্ষাপট। যুক্তরাষ্ট্রে অনেকগুলো পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতেও পত্রিকার সার্কুলেশন কমেছে। মানুষ এখন অনলাইন মিডিয়া বেশি পড়ে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সুরক্ষা ও সম্ভাবনা এবং কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া যেতে পারে আমি সেটা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায় সেটা করে যাচ্ছি।

/এসএমএ/এমআর/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম