করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর পাল্টে গেছে অনেক কিছু। পরিবর্তন এসেছে যাতায়াতে। যারা গণপরিবহনে অফিস বা কর্মস্থলে যেতেন, সংক্রমণের ভয়ে এখন অনেকেই তা এড়িয়ে চলছেন। এমনিতেই গণপরিবহনে রয়েছে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা, তার ওপর রয়েছে বাড়তি ভাড়া। সব মিলিয়ে, সামর্থ্য অনুযায়ী নাগরিকরা বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত পরিবহন। ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত থেকে অফিস যাত্রা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ও স্বল্পমূল্যের বাহনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাইসাইকেল।
বুধবার (১০ জুন) দেশের সবচেয়ে বড় বাইসাইকেলের বাজার বংশাল ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। সাধারণ ছুটির পর সাইকেল বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। বছরের অন্যান্য সময়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দিনে এক বা দুইটি সাইকেল বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে গড়ে চার থেকে পাঁচটি।
মগবাজার থেকে বনানী নিয়মিত বাসে যাতায়াত করতেন বেসরকারি চাকরিজীবী সুমন। সাধারণ ছুটির পর সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চললে তাতে আর চড়ছেন না এই যুবক। তিনি বলেন, ‘বাসে এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করছে। কিন্তু বাসের ভেতর সিট জীবাণুমুক্ত রাখা থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তাই এখন আর বাসে চড়ছি না। গত কয়েকদিন রিকশা আর সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়েছি। তাতে খরচ বেশি হয়। তাই সাইকেল কিনেছি। এখন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবো।’
চলতি বছরের শুরুতে ছেলের জন্য সাইকেল কিনেছিলেন আগোরা গুলশান ব্রাঞ্চের ম্যানেজার পারভেজ আলম। সাধারণ ছুটির কারণে গণপরিবহন বন্ধের পর এপ্রিল থেকে অফিসে যাতায়াতের জন্য ছেলের জন্য কেনা সাইকেলটিই ব্যবহার করছেন তিনি। মিরপুর-২-এর বাসা থেকে গুলশান-২-এর অফিস পর্যন্ত আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা। দীর্ঘদিন পর আবার নতুন করে সাইকেল চালানো শুরু করায় প্রথম এক সপ্তাহ একটু কষ্ট হলেও এখন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন বলে জানান পারভেজ আলম। তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে অফিসে যাওয়া-আসায় একটু কষ্ট হয়েছে। কয়েকদিন চালানোর পর এই দূরত্ব এখন আর কিছু মনে হয় না। সারা দিনে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার জার্নি হয়। বাসা থেকে যাওয়া-আসায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। দুই মাস সাইকেল চালানোর কারণে আমার শরীরের মেদও কমেছে। এখন সাইকেল চালাতে ভালো লাগে। ফিটনেস বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়াও বাচে।’
এদিকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দামের সাইকেল বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বংশালের আবদুল্লাহ সাইকেল স্টোরের মালিক আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গিয়ারসহ এবং গিয়ার ছাড়া দুই ধরনের বাইসাইকেলই বিক্রি হচ্ছে। করোনার কারণে এখন চাহিদা বাড়ছে, বিক্রিও বেড়েছে।’
বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় স্টোর থেকে এনে বাইসাইকেল শোরুমে ডিসপ্লে করা যাচ্ছে না। ক্রেতা পছন্দ করার পর তা স্টোর থেকেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেঘনা গ্রুপের সাইকেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান সাইকেল লাইফ এক্সক্লুসিভ-এর অ্যাসিস্টেন্ট মার্কেটিং ম্যানেজার সৈয়দ হেলাল হোসাইন সজীব। তিনি বলেন, ‘বিক্রি আগের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আমাদের দুটো ব্রান্ড, ইউরোপিয়ান মান অনুযায়ী তৈরি ভেলস এবং লোকাল মানে তৈরি ৭১। দুই মানের সাইকেলই ক্রেতারা কিনছেন। ভেলোস ব্র্যান্ডে ১৩ থেকে শুরু করে ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের বাইসাইকেল পাওয়া যায়। এছাড়া ৭১ মডেলের সাইকেলগুলো ৭ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বংশালে প্রায় ২০০ বাইসাইকেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাইসাইকেল মার্চেন্টস অ্যাসেম্বলিং অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেঘনার ভেলস, আরএফএল-এর দুরন্ত, ফনিক্স, হিরোসহ চায়না ব্র্যান্ডের বিভিন্ন সাইকেল বেশি বিক্রি হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’








