যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়, উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ মে ২০২১, ২৩:৩০আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২৩:৩৩

একদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন অন্যদিকে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার। দেশে যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে হাজার মানুষ- এদিকে যেনো কারও ভ্রূক্ষেপ নেই। সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় শপিং মলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। শপিং মলগুলোতে যারা এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাদের। প্রচণ্ড গরমের দোহাই দিয়ে মাস্ক না পরার বিষয়টি জায়েজ করার চেষ্টা তাদের। এছাড়া বিক্রেতারাও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের বিভিন্ন পণ্য দেখাচ্ছেন।

যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়,  উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

শুক্রবার (৭ মে) রাজধানীর বেশ কয়েকটি শপিং মল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শপিং মলগুলোতে ছিলো ক্রেতাদের আনাগোনা। ঈদ উপলক্ষে নিজেদের পছন্দের পণ্যটি কিনে নিতে ছুটছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। অনেকেই এসেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, এমনকি অনেকে ছোট বাচ্চাদের নিয়েও শপিং মলে এসেছেন। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ে কোন ভীতি কাজ করছে।

কসমেটিকসের দোকান থেকে শুরু করে শাড়ি কাপড়ের দোকান- সবগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। এছাড়া ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিলো চোখে পড়ার মত।

মার্কেটে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সাপ্তাহিক ছুটি তাই কেনাকাটা করতে বের হয়েছেন। করোনা শঙ্কা থাকলেও সেটার কেয়ার করছেন না তারা।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এককথায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। লোকে লোকারণ্য বিভিন্ন দোকান। গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে, ধাক্কাধাক্কি করে চলতে হচ্ছে। আর ফুট ওভারব্রিজগুলোতে ওঠানামায় ছিল ব্যাপক ভিড়।

সরকার যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ঠিক তার উল্টো চিত্র রাজধানীর নিউ মার্কেট গাউছিয়াসহ বিভিন্ন শপিং মলগুলোতে। এছাড়াও চোখে পড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি।

মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন দাবি করেন, সমিতির প্রতিনিধিরা মার্কেটের ভবনগুলোতে নজরদারি রাখছে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে। কিন্তু প্রায় ঘণ্টাখানেক মার্কেটে বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে পর্যবেক্ষণ করলেও দেখা মেলেনি সে ধরনের কোনো কার্যক্রম। বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকেরই মাস্ক ছিল না। এতে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল পাওয়া যায়নি।

শ্যামলী স্কয়ার শপিং মল দোকান মালিক সমবায় সমিতি কোষাধ্যক্ষ তৈয়ব আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মার্কেটে ঢোকার সময় জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে সবাইকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেছে উল্টো। মাস্ক ছাড়া অনেকেই মার্কেটের ভেতরে ঘোরাফেরা করছেন। বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কিংবা মাস্ক পরার বিষয়টি নজরদারির জন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি।

যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়,  উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

রাজধানীর মিরপুর এক নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে দোকানে দোকানে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কারও মধ্যে কোন সচেতনতা নেই। ক্রেতা কিংবা দোকানমালিক- সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক আমিন মোল্লাও নিজেদের তৎপরতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ক্রেতাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। বলেন, মার্কেটে ঢোকার সময় স্যানিটাইজার’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন ঘুরে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মার্কেটের সামনে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে টহলরত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়।

যেমন ছিল রাজধানীর সড়কের অবস্থা

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাজধানীতে যাত্রী তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছিল কম। তবে যারা ছিল তাদের গন্তব্য বিভিন্ন শপিং সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে। গণপরিবহন চালু হওয়ায় অনেকে নিজেদের সুবিধামত জায়গায় কেনাকাটা করতে যেতে পেরেছেন। যেখানে সিএনজি দিয়ে যেতে হতো, গণপরিবহন চালু হওয়ায় করোনা ঝুঁকির মধ্যেও বাসে চড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শপিং মলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের আনাগোনাও কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শপিং সেন্টারগুলোর সামনে সৃষ্টি হয় যানজটের।

যানজট ঠেলে শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়,  উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

নিউ মার্কেটে শপিং করতে আসা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, করোনা শঙ্কা থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গণপরিবহনে শপিং মলে এসেছি। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। আর যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি।

এদিকে ইউনুস আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, মিরপুর থেকে নিউ মার্কেট আসতে বেশ কয়েকবার যানজটে পড়তে হয়েছে। ভেবেছিলাম ফাঁকা পাবো রাস্তা কিন্তু শুক্রবারেও যানজটে পড়ে থাকতে হয়েছে।

 

/আরটি/এনএইচ/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান