রাজধানীর খিলগাঁও মেরাদিয়া মধ্য পাড়ায় নাসরিন আক্তার বৃষ্টি (২০) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিবাগত রাত ৮টায় মেরাদিয়া মধ্য পাড়ায় ভাড়া বাসায় এই ঘটনাটি ঘটে।
বৃষ্টি পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তর ভাইজোড়া গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে সে ছিলো বড়। বর্তমানে ২৪/২ মেরাদিয়া মধ্য পাড়া খিলগাঁওয়ে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো।
নিহতের মামা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেড় বছর পূর্বে বৃষ্টির সঙ্গে নুরুজ্জামানের সম্পর্কের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরেই বৃষ্টির স্বামীকে দেড় লাখ টাকা ব্যবসা’র জন্য দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বৃষ্টিকে আরও দুই লাখ টাকা আনার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দেয় স্বামী নুরুজ্জামান। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও বলেন, গতকাল রাত ৯টায় বৃষ্টির স্বামী নুরুজ্জামান স্বজনদেরকে ফোন দিয়ে জানায় বৃষ্টি অসুস্থ। পরে বৃষ্টিকে স্বামী নুরুজ্জামান বনশ্রী ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানের চিকিৎসক জানিয়েছেন অনেক আগেই সে মারা গেছে। এরপর বাসায় নিয়ে আসলে আমরা রাতে গিয়ে অচেতন অবস্থায় বৃষ্টির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই।
পরে পুলিশকে খবর দিলে ওই বাসা থেকে বৃষ্টিকে অচেতন অবস্থায় ভোর সোয়া চারটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃষ্টিকে শাশুড়ি ও তার স্বামী নূরজ্জামাল মিলে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের মামা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক এসআই সোহাগ হোসেন বলেন, যৌতুকের দাবিতে স্বামী-শাশুড়ি গলায় গামছা পেঁচিয়ে বৃষ্টিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে- এমন অভিযোগ পেয়েছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।









